রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বদলে সমাজের মানুষের অংশগ্রহণ, পুজোর উদ্বোধন নিয়ে শংকর ঘোষের বার্তা

শিলিগুড়িতে দুর্গাপুজোর আবহ তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন পুজো মণ্ডপের উদ্বোধন ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্টজনদের ব্যস্ততা। তবে এবারের পুজো উদ্বোধন থেকে নিজেকে কিছুটা দূরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ। আর সেই সিদ্ধান্তের কারণও স্পষ্টভাবে জানালেন তিনি।

এদিন কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে আন্তঃবিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালীন মঞ্চ আলো করে বসে থাকা এবং ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়া—এমন পরিস্থিতি তিনি চান না। এমনকি তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকলেই যদি সব জায়গায় উদ্বোধনে যেতে হয় এবং ক্ষমতা হারানোর পর সেই কারণেই মানুষের কাছ থেকে ডিম ছোড়ার মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়, তাহলে সেই ধরনের রাজনীতি তিনি করতে চান না।

শংকর ঘোষের বক্তব্য, পুজোর উদ্বোধন এমন একটি সামাজিক অনুষ্ঠান যেখানে সাধুসন্ত থেকে শুরু করে বিভিন্ন সমাজসেবী সংগঠনের সদস্য, প্রবীণ নাগরিক এবং মহিলারাও উপস্থিত থাকতে পারেন। তাই রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পরিবর্তে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের অংশগ্রহণকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিতে চান।

অন্যদিকে, পুজোর সময় শহরের পরিস্থিতি নিজে ঘুরে দেখার কথাও জানান পর্যটনমন্ত্রী। তাঁর দাবি, তিনি নিজেই স্কুটিতে চড়ে শিলিগুড়ির একাধিক পুজো মণ্ডপ ঘুরে দেখেছেন। সেই সময় কোনও সমস্যার মুখে পড়তে হয়নি বলেও জানান তিনি।

সব মিলিয়ে, পুজোর উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উপস্থিতির বদলে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ এবং সামাজিক সম্প্রীতির দিকটিকেই গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিলেন পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ। কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামের মঞ্চ থেকে তাঁর এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।