শিলিগুড়ির বাসিন্দা ৩৬ বছর বয়সী শ্রীমতী রিয়া এবং ৩৯ বছর বয়সী শ্রী রায় (গোপনীয়তা রক্ষার্থে নাম পরিবর্তিত)-এর কোল আলো করে এলো দ্বিতীয় সন্তান। শিলিগুড়ির ‘নোভা আইভিএফ ফার্টিলিটি’-তে উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে যা সম্ভব হয়েছে। প্রথম সন্তান স্বাভাবিকভাবে হওয়ার পর, গত ৮ বছর ধরে তারা আরেকটি সন্তানের চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে তাদের দু’বার গর্ভপাত হয় এবং প্রসবের পর দু’টি সন্তানকে তারা হারান।
স্ত্রীর সব রিপোর্ট স্বাভাবিক ছিল এবং স্বামীর সাধারণ সিমেন অ্যানালিসিসেও শুক্রাণুর সংখ্যা ঠিক ছিল। তবে নোভা আইভিএফ-এর ফার্টিলিটি স্পেশালিস্ট ডা. ইয়ামিনি আগরওয়াল স্বামীর শুক্রাণুর গভীরতা পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেন। অ্যাডভান্সড সিমেন মূল্যায়ন করে দেখা যায়, স্বামীর ‘স্পার্ম ডিএনএ ড্যামেজ’-এর মাত্রা ছিল ৩৫%, যা স্বাভাবিক অর্থাৎ ২৫%-এর চেয়ে অনেক বেশি। শুক্রাণুর এই অতিরিক্ত ক্ষতিই বারবার গর্ভপাতের কারণ ছিল।
এর সমাধানে চিকিৎসকেরা ‘মাইক্রোফ্লুইডিকস’ প্রযুক্তির সাহায্যে সবচেয়ে সুস্থ ও গতিশীল শুক্রাণুটি বেছে নেন। এরপর দম্পতির নিজস্ব ডিম্বাণু ও শুক্রাণু দিয়ে আইভিএফ চিকিৎসা করা হয়। ডা. ইয়ামিনি আগরওয়াল জানান, “অনেকে ভাবেন একবার স্বাভাবিক সন্তান হলে দ্বিতীয়বার কোনও সমস্যা হবে না। কিন্তু বয়স, লাইফস্টাইল বা ডায়াবেটিসের কারণে শুক্রাণুর মান কমে যেতে পারে। তাই সমস্যা হলে দ্রুত পরীক্ষা করা জরুরি।”
শিলিগুড়ির মতো শহরে যেখানে একটি সন্তানকে ভাই বা বোন উপহার দিয়ে পরিবার সম্পূর্ণ করার স্বপ্ন থাকে অনেকের, সেখানে এই ঘটনা ‘সেকেন্ডারি ইনফার্টলিটি’ নিয়ে নতুন সচেতনতা তৈরি করে।
শিলিগুড়ির দম্পতির ৮ বছর পর আইভিএফ-এর মাধ্যমে সুস্থ সন্তানের জন্ম
