এইচডিএফসি ব্যাংকের পরিবর্তন পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারে অম্বুজা ফাউন্ডেশনের সাথে যৌথ উদ্যোগে নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক উন্নয়ন কর্মসূচির সূচনা করেছে

এইচডিএফসি ব্যাংক তাদের সিএসআর কর্মসূচি পরিবর্তন-এর মাধ্যমে এবং অম্বুজা ফাউন্ডেশনের সাথে যৌথ উদ্যোগে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলায় একটি নতুন কৃষি উন্নয়ন ও দক্ষ জল ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির সূচনা করেছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো জল সংরক্ষণ ও সেচ ব্যবস্থার পরিকাঠামো গড়ে তোলা, স্থানীয় সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা এবং এলাকার কৃষক ও গ্রামীণ নারীদের সহায়তার জন্য মহিলা-নেতৃত্বাধীন জীবিকামূলক কাজকর্মের প্রসার ঘটানো। রাজ্যের উত্তরে অবস্থিত পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলায় উন্নয়নের ব্যাপক প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এখানকার স্থানীয় মানুষজন এখনো অনেক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত, যেখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান ও পরিকাঠামোর সুবিধা খুবই সীমিত। সেই সাথে গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দারা স্কুলের দুর্বল পরিকাঠামো এবং সুপেয় পানীয় জলের অপ্রতুলতার মতো নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। স্থানীয় জনসাধারনের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই অঞ্চলের কৃষিভিত্তিক জীবিকা ও জলসুরক্ষাকে আরও মজবুত করে এই খামতিগুলো পূরণ করার উদ্দেশ্যেই এই কর্মসূচিটি তৈরি করা হয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে কৃষিকাজের জন্য জলের যোগান বাড়াতে মূলত রিভার লিফট ইরিগেশন সিস্টেম, চেক ড্যাম এবং কৃষিজমিতে পুকুর তৈরির ওপর প্রধান জোর দেওয়া হবে। প্রকল্পের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন এবং নজরদারির দায়িত্ব পালনের জন্য প্রতিটি গ্রামে ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট কমিটি বা গ্রাম উন্নয়ন কমিটি (VDCs) এবং ফার্মার্স ক্লাব বা কৃষক ক্লাবের মতো সামাজিক সংগঠনগুলো গড়ে তোলা হবে। এছাড়া, দৈনন্দিন কাজকর্ম পরিচালনা এবং জলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি সেচ পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে ওয়াটার ইউজার্স গ্রুপ বা জল ব্যবহারকারী গোষ্ঠী (WUGs) গঠন করা হবে।

এই উদ্যোগটি সম্পর্কে বলতে গিয়ে এইচডিএফসি ব্যাংকের সিএসআর প্রধান নুসরাত পাঠান বলেন, “এইচডিএফসি ব্যাংকে আমরা বিশ্বাস করি যে, টেকসই গ্রামীণ উন্নয়নের মূল ভিত্তি হতে হবে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ এবং দীর্ঘমেয়াদী চিন্তাভাবনা। পরিবর্তন কর্মসূচির মাধ্যমে কোচবিহারে অম্বুজা ফাউন্ডেশনের সাথে আমাদের এই যৌথ উদ্যোগ কৃষকদের জন্য উন্নত ও টেকসই সেচ পরিকাঠামো গড়ে তুলতে, জলের সঠিক ব্যবহারের পদ্ধতি গ্রহণ এবং এই অঞ্চলের মহিলাদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান বা জীবিকার সুযোগ তৈরি করতে সাহায্য করবে। আমরা নিশ্চিত যে, এই উদ্যোগটি পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম পিছিয়ে পড়া এই জেলাটিতে স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন নিয়ে আসবে”।  জল সংরক্ষণের ক্ষমতা এবং ভূগর্ভস্থ জলের স্তর বৃদ্ধি করতে অম্বুজা ফাউন্ডেশনের দল কৃষিজমিতে পুকুর ও চেক ড্যামসহ বিভিন্ন জল সংরক্ষণ পরিকাঠামো নির্মাণে সহায়তা করবে। কৃষকদের সৌরচালিত বা সোলার সেচ ব্যবস্থা গ্রহণে উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাঁদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে। পাম্পের সাহায্যে নদীর জল তুলে মাটির তলার পাইপলাইনের মাধ্যমে বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সোলার রিভার লিফট ইরিগেশন ব্যবস্থার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। এছাড়াও, বুড়ি তিস্তা নদীর খালের সংস্কার বা নাব্যতা ফেরানো এবং জল সংরক্ষণের অন্যান্য কাজকর্মও পরিচালনা করা হবে। এছাড়াও, এই কর্মসূচির অধীনে মহিলাদের আর্থিক স্বাধীনতাকে আরও মজবুত করতে বিভিন্ন গোষ্ঠী গঠন করা হবে। গ্রামের নারীদের একসঙ্গে মিলে কাজ করতে এবং পশুপালনের সাথে যুক্ত বিভিন্ন প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট স্থাপনে উৎসাহিত করা হবে, যাতে তাঁরা তাঁদের পরিবারকে সহায়তা করতে পারেন এবং পরিবারের মোট আয় বৃদ্ধি করতে পারেন।

এই যৌথ উদ্যোগ সম্পর্কে বলতে গিয়ে অম্বুজা ফাউন্ডেশনের সিইও মিঃ চন্দ্রকান্ত কুম্ভানি বলেন, “অম্বুজা ফাউন্ডেশন এবং এইচডিএফসি ব্যাংক গ্রামীণ মানুষদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে বদ্ধপরিকর। আর সেই কারণেই কোচবিহারের গ্রামীণ সমাজকে সহায়তা করতে আমরা আবারও একসঙ্গে এগিয়ে এসেছি। আমরা মানুষকে জল সংরক্ষণ এবং সঠিক পদ্ধতিতে কৃষিকাজ করতে উৎসাহিত করব। পাশাপাশি, দীর্ঘমেয়াদী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে নারীদের স্বনির্ভর ও ক্ষমতায়ন করার দিকেও আমরা আরও বেশি নজর দেব। অর্থনৈতিক উন্নতির এই যাত্রায় গ্রামীণ মানুষকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে এবং তাঁদের পাশে দাঁড়াতে আমরা আশাবাদী”।  এই প্রকল্পের প্রধান সুবিধাভোগী হলেন কৃষক এবং গ্রামীণ মহিলারা। তাঁরা প্রাকৃতিক সম্পদ পরিচালনা এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের নানা কর্মসূচির মাধ্যমে উপকৃত হবেন। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থা, চেক ড্যাম ও কৃষিজমিতে পুকুর নির্মাণ, খালের সংস্কার, মাইক্রো-ইরিগেশন বা ক্ষুদ্র সেচ ব্যবস্থা, পলিহাউস, বায়ো-রিসোর্স সেন্টার, সৌরচালিত হিমঘর তৈরি এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার প্রসার। স্থানীয় মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং অবদানের ভিত্তিতেই এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত করা হবে, যাতে তাঁদের মধ্যে প্রকল্পের প্রতি নিজেদের দায়িত্ববোধ তৈরি হয় এবং প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদীভাবে সফল ও টেকসই হয়।

যৌথ সেচ পরিকাঠামো পরিচালনা করার জন্য ডাব্লিউইউজি (WUGs) এবং ফার্মার্স ক্লাবের মতো সামাজিক সংগঠন বা CBO গুলিকে উৎসাহিত করা হবে। অন্যদিকে, পলিহাউস, কাস্টম হায়ারিং সেন্টার, ফার্ম মেশিনারি ব্যাংক এবং নারী-পরিচালিত উদ্যোগগুলো কৃষকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে, আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে, যৌথ ব্যবসার মডেল তৈরি করতে এবং বাজারের সাথে তাঁদের যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করতে সাহায্য করবে। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের সাথে সমন্বয় সাধন বা একসাথে কাজ করা এই প্রকল্পের একটি অন্যতম প্রধান অংশ হবে। প্রকল্পের আওতাভুক্ত গ্রামগুলোতে গড়ে তোলা ফার্মার্স ক্লাব বা কৃষক ক্লাবগুলিকে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সাথে যুক্ত করা হবে। এর ফলে প্রকল্পটি শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও কৃষকরা খুব সহজেই বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প এবং পরিষেবাগুলোর সুযোগ-সুবিধা পেতে পারেন। আশা করা হচ্ছে যে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার হলদিবাড়ী ব্লকের ৬টি গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে থাকা ৪৬টি গ্রামের প্রায় ১৪,২৫৯টি পরিবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উপকৃত হবেন। এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এইচডিএফসি ব্যাংক লিমিটেডের জলপাইগুড়ি, পশ্চিমবঙ্গ ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মিঃ সুমন্ত মজুমদার; এইচডিএফসি ব্যাংক লিমিটেডের সিনিয়র ম্যানেজার মিঃ সৌভিক ভট্টাচার্য; এবং কোচবিহারের হলদিবাড়ী ব্লকের সহকারী কৃষি অধিকর্তা মিঃ দীপ সিংহ। এছাড়াও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিরাও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।