হাইকোর্টের নির্দেশে শিলিগুড়ির সুভাষপল্লিতে অবৈধ নির্মাণ ভাঙল পুরনিগম

হাইকোর্টের নির্দেশে শিলিগুড়ির সুভাষপল্লি এলাকায় অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযান চালাল শিলিগুড়ি পুরনিগম। বৃহস্পতিবার পুরনিগমের কর্মীরা এলাকায় গিয়ে একটি বাড়ির চিহ্নিত অবৈধ অংশ ভাঙার কাজ শুরু করেন। এদিন বাড়ির কয়েকটি অংশের পাশাপাশি ছাদেরও কিছুটা অংশ ভেঙে দেওয়া হয়। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।
জানা গিয়েছে, রঞ্জন সরকারের বাবা ১৯৯৮ সালে ওই বাড়িটি কিনেছিলেন। বর্তমানে সেখানে রঞ্জন সরকার, তাঁর দুই ভাই এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বসবাস করেন। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ওই বাড়িতে তাঁরা বসবাস করে আসছেন। তবে কয়েক বছর আগে বাড়িটির নির্মাণ নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয় এবং বিষয়টি হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।
দীর্ঘদিন মামলা চলার পর সম্প্রতি হাইকোর্টের তরফে বাড়িটির অবৈধ অংশগুলি ধাপে ধাপে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই নির্দেশ মেনেই বৃহস্পতিবার পুরনিগমের কর্মীরা অভিযান চালান। প্রথম ধাপে বাড়ির কয়েকটি অংশ এবং ছাদের একটি অংশ ভেঙে ফেলা হয়। পুরনিগম সূত্রে জানা গিয়েছে, আদালতের পরবর্তী নির্দেশ অনুযায়ী বাড়ির আরও চিহ্নিত অবৈধ অংশ ভাঙার প্রক্রিয়া হতে পারে।
তবে পুরনিগমের এই অভিযানে হতাশ বাড়ির মালিকপক্ষ। পরিবারের বক্তব্য, ১৯৯৮ সালে বাড়িটি কেনার সময় তাঁরা নির্মাণ সংক্রান্ত সমস্ত বিষয় সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। এত বছর ধরে বসবাস করার পর আচমকা বাড়ির অংশ ভেঙে দেওয়ায় তাঁরা সমস্যায় পড়েছেন। তাঁদের আরও দাবি, ভাঙার মাত্র দু’দিন আগে নোটিশ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
অন্যদিকে, হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ীই পুরনিগমের এই পদক্ষেপ বলে জানা যাচ্ছে। ফলে আগামী দিনে আদালতের পরবর্তী নির্দেশের দিকে তাকিয়ে রয়েছে দু’পক্ষই। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বাড়ির বাকি অবৈধ অংশ নিয়েও পরবর্তী পদক্ষেপ করা হতে পারে। এদিনের অভিযানের পর সুভাষপল্লির ওই বাড়িকে ঘিরে আইনি নির্দেশ, পুরনিগমের পদক্ষেপ এবং পরিবারের আপত্তি—তিনটি বিষয়ই সামনে এসেছে।