সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়ার (SEBI) অধীনে, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ অফ ইন্ডিয়া (NSE) সম্প্রতি কলকাতায় “সমঝ সে ইনভেস্টিং সিম্পল” থিমের অধীনে আর্থিক সাক্ষরতা, ওয়াকিবহাল বিনিয়োগ এবং বিনিয়োগকারী সুরক্ষার ওপর জোর দিয়ে একটি আঞ্চলিক বিনিয়োগকারী সচেতনতা সেমিনার (RISA) আয়োজন করেছিল।
প্রধান অতিথি হিসেবে সেমিনারে ভাষণ দিতে গিয়ে সেবি (SEBI)-এর চেয়ারম্যান শ্রী তুহিন কান্ত পান্ডে পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরেন। রাজ্যে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ২০১৫ সালের প্রায় ১২ লাখ থেকে প্রায় আট গুণ বেড়ে বর্তমানে প্রায় ৯০ লাখে পৌঁছেছে।
রাজ্যে প্রায় ৪৩ লাখ ইউনিক মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগকারী রয়েছেন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের শেষে মিউচুয়াল ফান্ড সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩.৬৫ লাখ কোটি টাকা।
সেবির বিনিয়োগকারী সমীক্ষার উল্লেখ করে তিনি জানান যে, ৬৩% পরিবার অন্তত একটি সিকিউরিটিজ-মার্কেট পণ্য সম্পর্কে সচেতন হলেও, মাত্র ৯.৫% বাজারে অংশগ্রহণ করেছেন, যা আরও ব্যাপক আর্থিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তাকে চিহ্নিত করে।
চেয়ারম্যান বিনিয়োগকারী সুরক্ষার একাধিক পদক্ষেপের রূপরেখা তুলে ধরেন, যার মধ্যে রয়েছে আধার-ভিত্তিক ই-কেওয়াইসি (e-KYC), মিউচুয়াল ফান্ড ফোলিও লক করা, ডিম্যাট অ্যাকাউন্টে সিকিউরিটিজের সরাসরি পে-আউট এবং সহজীকৃত নমিনেশন প্রক্রিয়া। তিনি আরও জানান যে, ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলির ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ডাইরেক্ট মিউচুয়াল ফান্ড প্ল্যানগুলি ডিফল্ট বিকল্প হিসেবে দেখা যাবে।
প্রতারণামূলক ট্রেডিং অ্যাপ্লিকেশন, ক্লোন ওয়েবসাইট, ডিপফেক এবং বিভ্রান্তিকর সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপ সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি সেবি চেক (SEBI Check) এবং ভ্যালিডেটেড ইউপিআই (UPI) হ্যান্ডেলের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে মধ্যস্থতাকারী ও পেমেন্ট চ্যানেল যাচাই করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
৫ অক্টোবর ২০২৬-এ চালু হওয়া সেবির দেশব্যাপী বিনিয়োগকারী সচেতনতা উদ্যোগ ‘প্রজেক্ট জাগরুক’-এর ওপর আলোকপাত করে চেয়ারম্যান আঞ্চলিক ভাষা এবং ডিজিটাল যোগাযোগের মাধ্যমে আর্থিক সাক্ষরতার প্রসারের ওপর জোর দেন।
বাংলা ভাষার প্রচারমূলক কনটেন্ট প্রায় ২২ লাখ ভিউ রেকর্ড করেছে, আর প্রথম দুটি প্রচারের সময় ভারতজুড়ে বাংলায় ৩.৭ কোটিরও বেশি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পাঠানো হয়েছে।
সেমিনারে কর্পোরেট বন্ড মার্কেট সংস্কার এবং খুচরা বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের ওপর একটি প্যানেল আলোচনার পাশাপাশি ইন্টারেক্টিভ বিনিয়োগকারী সচেতনতামূলক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ অফ ইন্ডিয়া (NSE)- ১৯৯৪ সালে তার কার্যক্রম শুরু করে এবং এটি ছিল ভারতের প্রথম ইলেকট্রনিক ট্রেডিং এক্সচেঞ্জ। এফআইএ (FIA) পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২৫ সালে ট্রেডিং ভলিউমের দিক থেকে এটি বিশ্বের বৃহত্তম ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জ ছিল।
কলকাতায় এনএসই সেমিনারে বিনিয়োগকারী সচেতনতা ও সুরক্ষার ওপর জোর দিলেন সেবি চেয়ারম্যান তুহিন কান্ত পান্ডে
