পাওয়ারলুমের বাড়বাড়ন্তে সং*কটে বাংলার ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প

বাংলার ঐতিহ্যবাহী হস্তচালিত তাঁতশিল্প ক্রমশ সংকটের মুখে পড়েছে। শান্তিপুর ও ফুলিয়ার বহু তাঁতঘরে আগের মতো আর তাঁতের খটখট শব্দ শোনা যায় না। কাজের অভাব ও জীবিকার অনিশ্চয়তায় অনেক তাঁতি বাধ্য হয়ে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ।

তাঁতিদের অভিযোগ, ২০১৬-১৭ সালের পর থেকে বাজারে পাওয়ারলুমে তৈরি কাপড়ের দাপট বাড়তে শুরু করে। তাঁদের দাবি, হস্তচালিত তাঁতের জন্য সংরক্ষিত ২২ ধরনের বস্ত্র পাওয়ারলুম বা মিলে তৈরি করা আইনত নিষিদ্ধ হলেও ২০১৮ সালের পর থেকে নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা বেড়েছে।

এ ক্ষেত্রে টেক্সটাইল দপ্তরের এনফোর্সমেন্ট বিভাগের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছেন তাঁতশিল্পীরা। তাঁদের দাবি, নিয়ম লঙ্ঘন করে পাওয়ারলুমের উৎপাদন চললেও মাঠপর্যায়ে নিয়মিত নজরদারি বা অভিযান দেখা যাচ্ছে না। স্থানীয় প্রশাসন বা পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে পাওয়ারলুমের লাইসেন্স দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তাঁত আন্দোলনকারী হরপদ বসাকের অভিযোগ, হস্তচালিত তাঁত সমবায় সমিতিগুলির শীর্ষ সংস্থা ‘তন্তুজ’-এও পাওয়ারলুমে তৈরি কাপড় বিক্রি হচ্ছে।

কাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় তাঁতশিল্পের সঙ্গে যুক্ত বহু পরিবার বিকল্প জীবিকার সন্ধানে অন্য রাজ্যে চলে যাচ্ছেন। অসম ও দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন এলাকায় তাঁতিরা দিনমজুরি বা অন্যান্য কাজের জন্য পাড়ি দিচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। এতে ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের সঙ্গে যুক্ত দক্ষ কারিগরদের একটি অংশও ধীরে ধীরে এই পেশা থেকে সরে যাচ্ছেন।

প্রবীণ তাঁতশিল্পীদের দাবি, হস্তচালিত তাঁত সংরক্ষণে থাকা আইন কঠোরভাবে কার্যকর করার পাশাপাশি এনফোর্সমেন্ট ব্যবস্থা আরও সক্রিয় করতে হবে। তাঁদের মতে, সরকারি নজরদারি ও প্রশাসনিক সদিচ্ছা ছাড়া এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখা কঠিন। তাঁতিদের দাবি, দ্রুত নজরদারি বাড়িয়ে বেআইনি পাওয়ারলুমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভিন রাজ্যে চলে যাওয়া তাঁতিদের ফিরিয়ে এনে শিল্পটিকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হোক।