সাহিত্য

মুখোশের খেলা

মুখোশের খেলা

"সুন্দর মুখের জয় সর্বত্র।" এই কথাটার সঙ্গে আমরা কম বেশী সকলেই পরিচিত।সুন্দর মুখ বলতে আমরা আপাতদৃষ্টিতে যা বুঝি তা কি আদৌ সুন্দর?অনেকেই বলবেন ঈশ্বর যার মুখশ্রী সুন্দর করে পাঠিয়েছেন তাকে সুন্দরই তো বলব।এখন প্রশ্ন হল মুখের শ্রী বলতে কি বোঝায়?আজকাল অতি আধুনিক যুগে নিমেষের মধ্যে যন্ত্রের সৌজন্যে সকলেই সুন্দর হয়ে ওঠে।সেই মেকী ছবি দেখতে- দেখতে বেশীরভাগ মানুষ একপ্রকার আত্মরতি লাভ করে।কেবল নিজেকে ভালবাসা বা নার্সিসিজম!নিজের সাজানো মিথ্যে মুখের মুখোশটা সকলের সামনে তুলে ধরার এক নেশা পেয়ে বসেছে যেন আমাদের!কিছুতেই আসল আমিটাকে,সত্যিকারের মুখটাকে কারো সামনে দেখাতে চাইছি না আমরা।কিন্তু এই মেকী মুখোশের আড়ালে সত্যিই কি মুখটাকে লুকিয়ে রাখা যায়? কেন আমরা…
Read More
দুষ্টুমির আদ্যশ্রাদ্ধ

দুষ্টুমির আদ্যশ্রাদ্ধ

স্কুল পাশ করা ছেলেগুলো কলেজে উঠেছে। সেই কোন কালে মধুবাবু মানে মধুসূদন বর্মন পাড়ায় ক্লাবটা প্রতিষ্ঠা করে গিয়েছিলো, উনি তো এপাড়ার লোক নন। উচ্চশিক্ষিত লোক, কারখানার কাজের অবসরে সমাজ সেবা করে বেড়াতেন। সেই সুবাদেই এ পাড়ায় নবারুন ক্লাবের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন । উনি মহৎ উদ্দেশ্যে করে ছিলেন। পাড়ার মানুষের আপদে বিপদে সবাই সবার পাশে থাকার একটা প্রবণতা থাকে, সে জন্য ক্লাব গড়ে ছিলেন। উনি তো ইহজগত  বেশ কয়েকবছর আগে ছেড়েছেন,তবে তার ক্লাব স্বমহিমায় আছে। তরুন প্রজন্মের  প্রচেষ্টায় নবারুন ক্লাব দাঁড়িয়ে আছে। মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসে। কিন্তু দুষ্টুমিতে কম যায়না। নবারুন ক্লাবে তপন, গৌতম, রাজীব, অরুন, গোকুল ছাড়াও অরো অনেক সদস্য আছে।…
Read More
চলে যাবার পর

চলে যাবার পর

একদিন অনেক দূর খুব যত্ন করে চলে যাব, পিপীলিকার বাসা বানিয়ে লুকিয়ে রইব মাটির নীচে,মিসিং ডাইরি, খবরের কাগজে বিজ্ঞাপনদিয়ে ও হদিস পাবে না। আমার জন্য এক কোটি ব্যস্ত হলেও পাবে না আমায় তখন,কোটি কোটি বার কাঁদলেও আর পাবে না। তোমার নিদ্রাহীন রাত গুলো তখন হয়ে যাবে তোমার কাছে কয়েক হাজার কোটি বছর।এক একটি ভাতের দানা হয়ে যাবে এক একটা বিশ্বাস ভাঙ্গার গল্প।মনে পড়বে সব তোমার - ঠিক পড়বে।তোমার মনে বাবুই পাখির খালি বাসা টাশিষ দিয়ে জানান দেবেযাও যাও আরো প্রবন্চক হও।
Read More
মল মাস কি ও কেন

মল মাস কি ও কেন

মল মাস বলে একটা মাসের কথা আমরা সবাই জানি। আমরা এটাও জানি, মল মাসে হিন্দুদের কোন পূজা পার্বণ এবং কোনরূপ শুভ অনুষ্ঠান হয় না। তবে কেন হয় না সেকথা আমরা অনেকেই জানি না। এ ব্যাপারে আলোচনা করতে গেলে ক্যালেন্ডার নিয়ে আলোচনা করতে হয়। ভারতবর্ষে দুই ধরনের ক্যালেন্ডার প্রচলিত আছে। এর একটি হলো চান্দ্র গণনা সাপেক্ষে, যা মূলত উত্তর ভারতে প্রচলিত, আর একটি হল সৌর গণনা সাপেক্ষে, যা বাংলা ক্যালেন্ডার। বাংলা ক্যালেন্ডারের প্রবর্তন করেছিলেন সিংহপুরের (বর্তমান হুগলি জেলার সিঙ্গুরের) রাজা শালিবাহন । শালিবাহনের নির্দেশে দন্ড ভূক্তীর (বর্তমান মেদিনীপুর জেলার কাঁথির) জ্যোতির্বিদ জয়ন্ত পানিগ্রাহী মহাশয় সূর্য সিদ্ধান্ত সরণি অনুসারে বাংলা বর্ষ গণনা…
Read More
খড়কুটো 

খড়কুটো 

আবার কেমন মাথাটা ভারী হয়ে গেছে স্নেহার ৷ কাল থেকে গা টাও হালকা গরম ৷ তাই নিয়েই সারাদিন কাজকর্ম সারছে ৷ ইন্দ্রনীল ফিরলে স্নেহা একবার বলার চেষ্টা করল তার শরীরটা খারাপ । কিন্তু ইন্দ্রনীল খুব রুক্ষ ভাবে বলে উঠল,  শরীর থাকলেই খারাপ হবে শুনে আমি কি করব !স্নেহা নিজের ঘরে চলে এল ….এই ধরনের কথা গুলো শুনতে সে অভ্যস্ত ৷ একসময় খারাপ লাগলেও এখন কেমন গা সওয়া হয়ে গেছে ৷ নিজের ভালো মন্দের আলোচনা ইন্দ্রনীল এর সঙ্গে আর করতেই ইচ্ছে হয়না ৷প্রয়োজন এর বাইরে দুজনের কেউই কথা বলে না ৷ঘর আলাদা হয়ে গেছে প্রায় দশ বারো বছর ৷  একসঙ্গে এক…
Read More
শেষ পর্ব

শেষ পর্ব

আমি তিলে তিলে শেষ হয়ে যাচ্ছি।না পাওয়া গুলো, আমার পিছু ধাওয়া করে আসছে।আমাকে খাঁদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে ক্রমশ।আমি থমকে দাঁড়িয়ে আছি,একটা বিশাল বট গাছের তলায়।গাছের পাতা গুলো ঝড়ে পরে যাচ্ছে!আর কয়েকটা মাত্র পাতা,তারপর প্রখর রোদে জ্বলতে হবে আমায়।আর আমার স্বপ্নগুলো গুলোকেরোসিন মেখে তৈরি আছে, সুযোগ পেলেইচিতার কাঠ হয়ে আমাকে পোড়াবে বলে।
Read More
নয়াসাইলি : স্বপ্নদর্শী এক চা-ভূখণ্ড

নয়াসাইলি : স্বপ্নদর্শী এক চা-ভূখণ্ড

রেইন-ট্রি গাছদুটো আজও অতিকায় ছাতার মতো ছায়া বিছিয়ে রাখে বাগানে ঢোকার মুখে। অথবা চম্পাগুড়ি হাটের ঐ যে ঝুরিনামা বটগাছগুলো যারা আলো আঁধারি ঘেরা সন্ধ্যার বাতাসে  ফিসফিসিয়ে ভাসিয়ে দেয় বহুযুগ আগে হারিয়ে যাওয়া বিবর্ণ দিনগুলোর গল্প আর সেই গল্পের রেশ ভাসতে ভাসতে হারিয়ে যায় ছোট ছোট চা-জনপদগুলো ছুঁয়ে  পশ্চিমে জলঢাকার চর পেরিয়ে  দূর অরণ্যের ভেতর,  তারা এ মাটির ইতিহাস অনেকটাই জানে। কিন্ত উত্তরে প্রাচিরের মতো যুগযুগান্ত বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ঐ যে নীলরঙা আদিম পাহাড়, বয়সের যার কোনও মাপকাঠি নেই শুধু সে-ই জানে এ তল্লাট জুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রতিটি চা-বাগানের জন্ম ইতিহাস। ১৬.১০.১৮৮৫ তারিখে মিঃ ডি. ক্লার্ক সাহেব যেদিন নিদিম টি- কোম্পানির …
Read More
বিয়েবাড়ি 

বিয়েবাড়ি 

পড়ন্ত বিকেলে, সূর্য প্রায় নদীর বক্ষে ঢলে পড়েছে, আকাশ হলদে-লাল ছটায় ভরে গিয়েছে যেন কোনো এক পাড়াগাঁয়ের মেয়ের সবে মাত্র বিবাহ সম্পন্ন হয়ে  এই প্রথম কপাল থেকে নাকের ডগায় সিঁদুর গড়িয়ে পড়ল।  আর আকাশের সেই মেঘগুলো যেন কোনো এক  সদ্য স্নান সেরে আসা কিশোরীর ঘন কেশ।  সেদিন ছিলো শ্রাবণ মাসের কোনো এক মঙ্গলবার, গ্রামের এক খানিক উন্নত পাড়ায় ভালোই সম্পদবান কোনো এক বাড়ির সবচেয়ে প্রিয় পুত্রের বিয়ে, বেশ জাঁক জমকভাবে সমস্ত কাজ সম্পাদন করা হচ্ছিলো, রান্নার ঠাকুর ছিলো উড়িষ্যার থেকে ভাড়া করা, নানারকমের মিষ্টির, সরবতের সমাহার ছিলো সেইখানে।  কোনো আয়োজনে কোনোপ্রকার খামতি ছিলো না। অতো বড়ো বিয়েবাড়ি তার ওপর আবার…
Read More
ব্যর্থতার অভ্যাস

ব্যর্থতার অভ্যাস

আধার যত গভীর হয়ে আসে, মস্তিষ্কেহিজিবিজি কাটে সময়ের ভর্ৎসনাপাংশু মুখে কেপে কেপে ওঠেঅসুখ বুকের গোঙানি। রাতের তারাদের উজ্জ্বল হাসিকেকালো মেঘের বিষাক্ত হুমকি মুচড়ে ধরে।ছটফট করেও পথ খুঁজে পায় নাশীতল বৃষ্টির মোক্ষ দ্বার । বারবার লড়াই বাধে জটিল পরিস্থিতির সূচালো মানসিকতা ও স্ব অস্তিত্ব রক্ষার, অথচ, জয়ী হয় রোজকার আত্মহনন। আর, শুষ্ক চোখ থেকে উদ্বাস্তুর মতো উবে যায়চিরকালের স্বপ্নের চাবিকাঠি।
Read More
এক বোবা মেয়ের মুখে কথা ফোটানোর গল্পটা

এক বোবা মেয়ের মুখে কথা ফোটানোর গল্পটা

শিশু দিবসে সব চেয়ে উজ্জ্বল জ্যোতিষ্করা হোলো বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন সকল শিশু l তাদের জন্যে আমাদের সুস্থ হৃদয়ে যেন স্নেহ, মায়া, মমতা, আদর,ভালোবাসা থাকে নিরন্তর l আমরা বলি কথার কথাকথার দাম আসলে কি?নীরব শব্দ যাদের মুখে'কথা'-তাদের বড্ড দামী ll এই সত্যি লেখনী এক নিঃশব্দ সন্তানের মুখে অবিরাম কথা দিয়ে শব্দ বুনে চলা এক মায়ের নিরন্তর চেষ্টার কথা llযে মেয়েটি অল্প কিছু শুনতে পারলেও বলতে পারতো না একেবারেই l সারাক্ষণ মায়ের হরেক-রকম বকম-বকম তাকে কতোই না শব্দ চিনিয়েছে , কথা শুনিয়েছে l আজ মেয়েটি অনেক কথা বোঝে, মায়ের অপ্রকাশিত বেদনা,কান্নার অনুভূতি গুলোও মেয়েটির শিশু মনে শব্দ হয়ে বাজে l তাই তো…
Read More
দৃশ্য

দৃশ্য

যাকে একমুহুর্ত দেখলেমনটা খুশিতে অনর্গল হয়ে যায়,সে আমার হোক বা অন্য কারোরতাতে কি আসে যায়? যার প্রতিটা নিঃশ্বাসের আওয়াজতীরের ফলার মতো বুকে বেঁধে যায়,সে কাছে থাকুক বা দূরেতাতে কি আসে যায়? যাকে স্পর্শ ছাড়াই অনুভব করা যায়,যার প্রতিটা পদক্ষেপ আমাতেই অন্ত হয়,সে কাছে থাকুক বা দূরেতাতে কি আসে যায় ? যার আশাটা ছিল আচমকাই,না হয় চলে যাওয়াটাও হবে আক্ষেপের,তাই সে মনে রাখুক বা ভুলে যাক,তাতেই বা কি আসে যায়? ...................নিরূপমা
Read More
অপ্রতিরোধ্য সত্যকাম

অপ্রতিরোধ্য সত্যকাম

রোহিণী বুঝতে পারছে তার দিন শেষ হয়ে আসছে । একটাই চিন্তা ছেলেটার সঙ্গে দেখা হবে তো ? ছেলেটা এখন দিল্লীতে । কিসের যেন মিটিং আছে । তখন সকলে বলেছিল রোহিণী ছেলেকে লেখাপড়া শেখাবার জন্যে যে নিজের শরীর পাত করছিস এই ছেলে পরে তোকে দেখবে ? একদিন দুপুরে রোহিণীর ঘুম ভেঙে পাশে ছেলেটাকে না দেখে ভাবে ছেলেটা এখন গেল কোথায় ? এই পরিবেশ ভাল না বলে যতটা সম্ভব ছেলেকে আগলে রাখার চেষ্টা করে । তাদের কাজ মানুষকে খুশী করা আর খুশী করতে না পারলেএকটা রাত নষ্ট হয়ে যায় । রোহিণীর এই কাজটা করতে আর ভালো লাগে না কিন্তু না করেও যে…
Read More
রথযাত্রার উৎস সন্ধানে

রথযাত্রার উৎস সন্ধানে

হিন্দুদের বিভিন্ন পূজা পার্বণের মধ্যে রথযাত্রার উৎসব একটি প্রসিদ্ধ উৎসব। আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে এই রথযাত্রার অনুষ্ঠিত হয়। শুক্লা একাদশীর দিন পুনর্যাত্রা বা উল্টো রথ হয়। হিন্দুরা রথযাত্রার দিন পুণ্যার্জনের জন্য রথের দড়ি টেনে থাকেন। তাদের বিশ্বাস রথের দিন শ্রী শ্রী জগন্নাথ বা শ্রীকৃষ্ণকে দর্শন করলে আর পুনর্জন্ম হয় না। বাংলা তথা ভারতের সর্বত্রই রথযাত্রার উৎসব উদযাপিত হয়। এর মধ্যে হুগলী জেলার মাহেশের রথযাত্রা, মায়া পুরের ইস্কনের রথযাত্রা, ওড়িশার পুরীর শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উল্লেখযোগ্য। রথযাত্রার উৎসবের প্রথম দিকে কিন্তু জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা বা শ্রী কৃষ্ণের রথযাত্রা বলা হতো না। বলা হত মৎস্যেন্দ্রনাথের রথযাত্রা। তবে কে এই মৎস্যেন্দ্রনাথ!অনেক…
Read More
সেই মহালয়া আজও…

সেই মহালয়া আজও…

বুড়ির পাট থেকে ফিরতি পথ ধরতেই দুদ্দাড় ছুটে বেরিয়ে গেল মা সন্তোষী নামের বাসটি। ভাগ্যিস লাফিয়ে রাস্তার ধারে চলে গিয়েছিলাম! না হলে বোধহয় বিপদ একটা হতই। উঠেছি সেই ভোরবেলায়। উঠোনে থাকা শিউলি গাছের তলা তখন সাদা ফুলে ঢাকা। ঝেঁপে ফুল এসেছে এবার। শিউলির মো মো গন্ধে আর ভোরের হালকা ঠান্ডায় কেমন একটা নেশা লাগছিল। হাতে তখনও গত রাতের মাংসের সুবাস। বৈষ্ণব বাড়ি বলে মাংস রান্নার ব্যাপার কম আমাদের। যেদিন হত সেদিন বেশ সাজো সাজো রব পড়ে যেত। রান্নাঘর থেকে অনেকটা দূরে আমাদের শোওয়ার ঘরের বারান্দায় মা আর বড়কাকিমা মাংস রাঁধতেন। ঘরে বসে প্রেসার কুকারের সিটি গুণতাম। একসঙ্গে সবাই খেতে বসা…
Read More