প্রতিবেশী দেশ নেপালের বন্যাদুর্গতদের সাহায্যে এগিয়ে এলো ভারত

‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ বা ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির প্রতি অবিচল থেকে, ভারত আবারও সংকটকালে নেপালের ‘প্রথম সাহায্যকারী’-র ভূমিকা পালন করলো। নেপালে বন্যা ও ভূমিধসের কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে ভারত সরকার দ্রুত পদক্ষেপ করছে। ২৬ অগাস্ট, কাঠমান্ডুতে প্রথম দফায় ১০ টন মানবিক সাহায্য এবং জরুরি ত্রাণ সামগ্রী ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধ পাঠানো হয়। ঠিক তার পরের দিন, ২৭ অগাস্ট, ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে করে ৩৭.৫ টনের দ্বিতীয় দফার ত্রাণ সামগ্রী পাঠানো হয়েছে, যা এই কঠিন সময়ে প্রতিবেশী নেপালকে তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান করছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক তাদের কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক তৎপরতা পুরোপুরি শুরু করে দিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর ২৭ অগাস্ট নয়াদিল্লিতে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। এই বৈঠকের বিবরণ দিয়ে জয়শঙ্কর সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’ (X)-এ লিখেছেন, “নেপালের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে পররাষ্ট্র সচিব, মন্ত্রকের টিম এবং কাঠমান্ডু ও বেজিংয়ে অবস্থিত আমাদের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে একটি পর্যালোচনা বৈঠক করেছি। বন্যাদুর্গত এলাকায় থাকা সমস্ত ভারতীয়দের খোঁজখবর ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ করা হচ্ছে।”
তিনি আরও লিখেছেন, “পররাষ্ট্র মন্ত্রক এই বিষয়ে বিভিন্ন মন্ত্রক, রাজ্য সরকার, ট্যুর অপারেটর এবং বিভিন্ন প্রকল্প কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করছে। আমরা ত্রাণ কাজের পাশাপাশি এই বিষয়টিতেও নেপাল সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি।”
কাঠমান্ডুতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে যে, ভারতের পাঠানো প্রথম দফার সাহায্য সামগ্রী ভারতীয় রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তব, নেপালের সংস্কৃতি, পর্যটন ও অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী খড়্গ রাজ পৌডেলের হাতে তুলে দেন। এছাড়া, ৩৭.৫ টন ত্রাণ সামগ্রী, ওষুধ ও খাবারের প্যাকেট সম্বলিত দ্বিতীয় দফার সাহায্য বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন মন্ত্রী মহাবীর পুনর’র হাতে তুলে দেওয়া হয়। দূতাবাস জানিয়েছে যে, সেখানকার সমস্ত কর্মকর্তা সতর্ক হয়ে রয়েছেন এবং নেপালে বসবাসকারী ভারতীয়দের সাহায্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন যে, কৈলাশ মানস সরোবর যাত্রায় গিয়ে নেপালে আটকে পড়া তামিলনাড়ুর ২১ জন ভারতীয় নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান যে, নেপালের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় পররাষ্ট্র মন্ত্রকে একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।
ভারতের এই দ্রুত সাহায্য প্রদান প্রমাণ করে যে, প্রতিবেশীদের সুখ-দুঃখ ও ভালো-মন্দের সঙ্গে ভারতও গভীরভাবে জড়িত। ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্প হোক, ২০১৯-২০ সালের করোনা মহামারী হোক, কিংবা বর্তমানের এই বন্যা বিপর্যয়—ভারত সবসময় কোনো বিলম্ব না করে তার বড় ভাইসুলভ দায়িত্ব পালন করেছে।