আন্তর্জাতিক মঞ্চে যোগাসনে সোনা জিতলেন পম্পা

সংসার সামলে যোগাসনের চর্চা। ভোর ৪টায় ঘুম থেকে উঠে শুরু হয় দিনের ব্যস্ততা। বাড়ির কাজ, সন্তানের দেখাশোনা, অনলাইন টিউশন এবং যোগাসনের ক্লাস—সবকিছুর পাশাপাশি নিজের অনুশীলন চালিয়ে গিয়েছেন পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলের বার্নপুরের বৈষ্ণববাঁধের গৃহবধূ পম্পা পাল। সেই কঠোর পরিশ্রমেরই মিলল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। থাইল্যান্ডের পাতায়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক যোগাসন প্রতিযোগিতায় ৪২ থেকে ৫০ বছর বয়সি বিভাগে স্বর্ণপদক জিতলেন তিনি।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভারত-সহ মোট নয়টি দেশ অংশগ্রহণ করে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন মোট ৪৯ জন। তাঁদের মধ্যে ১৯ জন স্বর্ণ, ১৭ জন রৌপ্য এবং ৯ জন ব্রোঞ্জ পদক জয় করেন। প্রতিযোগিতায় যোগাসনের মোট পাঁচটি আসন ছিল। এর মধ্যে তিনটি ছিল বাধ্যতামূলক এবং দুটি ঐচ্ছিক। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বাধ্যতামূলক আসনগুলি আগে থেকেই ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছিল। সেই অনুযায়ী প্রতিযোগীদের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নম্বর দেওয়া হয়। ঐচ্ছিক আসনগুলির মধ্যে হাতের ভারসাম্য ও পায়ের ভারসাম্যের আসনও ছিল।

তবে আন্তর্জাতিক স্তরে সাফল্য পাওয়া এতটা সহজ ছিল না। সংসার ও কাজের দায়িত্ব সামলে নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যেতে হয়েছে পম্পাকে। তিনি জানান, তিনি একজন গৃহবধূ। তাঁর একটি ছেলে রয়েছে, যে পড়াশোনা করে। পাশাপাশি তিনি অনলাইনে টিউশন করেন এবং যোগব্যায়ামের ক্লাসও নেন। যোগাসন শেখানোর মাধ্যমে সংসারের খরচেও স্বামীকে সহযোগিতা করেন।

নিজের দৈনন্দিন রুটিনের কথা জানিয়ে পম্পা বলেন, ভোর ৪টায় ঘুম থেকে ওঠেন তিনি। সকাল ৪টা থেকে ৬টা পর্যন্ত চলে বাড়ির কাজ। এরপর সকাল সাড়ে ৬টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত যোগব্যায়ামের ক্লাস নেন। তারপর দুপুরের খাবার রান্না-সহ সংসারের অন্যান্য কাজ সামলাতে হয়। বিকেল ৩টে থেকে ফের শুরু হয় যোগাসনের ক্লাস। এর মধ্যেই নিজের অনুশীলনের সময় বের করে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্য পেলেও দেশের অভ্যন্তরে যোগাসন প্রতিযোগিতায় সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ পম্পার। রাজ্য সরকারের কাছে তাঁর আবেদন, প্রতিভাবান যোগাসন প্রতিযোগীদের জাতীয় স্তরে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হোক।