মহিলা উদ্যোক্তেদের পাশে সরলা

নারীদের স্বাবলম্বী করে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি জোরদার করছে সরলা ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড মাইক্রোফাইনান্স প্রাইভেট লিমিটেড। এমনই একটি উদাহরণ হলেন জলপাইগুড়ি জেলার টুম্পা সাহা, যিনি তাঁর পরিবারকে সহায়তা করার জন্য একটি ছোট সেলাইয়ের ব্যবসা চালান।
গ্রাহকদের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, নিজের ব্যবসাকে আরও বড় করতে এবং দক্ষতার সঙ্গে অর্ডার শেষ করতে টুম্পার প্রয়োজন ছিল পর্যাপ্ত অর্থের। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে, তিনি সরলা ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড মাইক্রোফাইনান্স প্রাইভেট লিমিটেডের ময়নাগুড়ি শাখা থেকে ৬০ হাজার টাকার মাইক্রোফাইনান্স লোন নেন। তিনি এই টাকায় একটি নতুন সেলাই মেশিন কেনার পাশাপাশি কাঁচামাল এবং অন্যান্য সরঞ্জাম কেনার জন্য বিনিয়োগ করেন, যা তাঁর উৎপাদনশীলতা এবং কাজের গুণগত মান উভয় ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটায়। এর ফলে, তাঁর আয় বৃদ্ধি পায়, গ্রাহকদের অর্ডার আরও নিয়মিত হতে শুরু করে এবং তিনি আরও বেশি আর্থিক স্থিতিশীলতা অর্জন করেন।
টুম্পা বলেন, “সরলা আমাকে বড় স্বপ্ন দেখতে এবং একটি নিয়মিত ও বর্ধিত আয়ের মাধ্যমে নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখিয়েছে। আমি আমার ব্যবসাকে আরও সম্প্রসারিত করে একটি ছোট উৎপাদন ইউনিটে রূপান্তর করতে চাই এবং আমার মতো আরও অনেক মহিলার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই। আমার ছেলে এখন কোনও চিন্তা ছাড়াই একটি ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে পড়াশোনা করছে। ধন্যবাদ, সরলা।”
তাঁর এই যাত্রা প্রমাণ করে যে ক্ষুদ্রঋণ কীভাবে ছোট ব্যবসাকে শক্তিশালী করে। পশ্চিমবঙ্গে ক্ষুদ্রঋণের অবস্থান বেশ সুদৃঢ়; ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এখানে মোট ঋণ নেওয়ার পরিমাণ ছিল ২৭ হাজার ৫১০ কোটি টাকা এবং গড়ে প্রতি ঋণের আকার ৫২ হাজার ৪১৯ টাকা। এমএফআইএন-এনসিএইআর রিপোর্ট অনুযায়ী, ৮৬.৭%-এর বেশি ঋণগ্রহীতা এই টাকা ব্যবসা বা চাষবাসের মতো জীবিকামূলক কাজে লাগান এবং ৭৮.০% পারিবারিক আয়ে অবদান রাখেন। মূলত, এই ধারা একদম নিচু স্তরে উদ্যোক্তা তৈরিতে ও রাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ক্ষুদ্রঋণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকেই তুলে ধরে।