পশ্চিমবঙ্গের স্কেলার স্কুল অফ টেকনোলজির ছাত্র ক্যাম্পাস নিয়োগের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরে প্রতি মাসে 2 লক্ষ টাকা ইন্টার্নশিপ পেয়েছে

অনেক শিক্ষার্থীর কাছে স্নাতক হওয়ার পরই শুরু হয় কর্মজীবনের সুযোগ খোঁজার পথচলা। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরের সৌরাশিস সরকারের ক্ষেত্রে স্নাতক হওয়ার আগেই বিশ্বমানের শিল্পক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের যাত্রা শুরু হয়ে যায়। বর্তমানে তিনি স্কেলার স্কুল অফ টেকনোলজি (SST)-র ছাত্র। কোভিড-১৯ লকডাউনের সময় নিজে নিজেই কোডিং শেখার মাধ্যমে কম্পিউটার সায়েন্সের প্রতি তাঁর আগ্রহের সূচনা হয়। কৌতূহল থেকে শুরু হওয়া সেই আগ্রহ ধীরে ধীরে নেশায় পরিণত হয়। এরপর তিনি বিভিন্ন হ্যাকাথনে অংশ নেন, প্রোগ্রামিং দক্ষতা আরও বাড়ান এবং প্রচলিত ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার পরিবর্তে হাতে-কলমে, শিল্পক্ষেত্রভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ দেয় এমন একটি প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করার সিদ্ধান্ত নেন।

স্নাতক স্তরের পড়াশোনার সময় সৌরাশিস একাধিক ইন্টার্নশিপের সুযোগ পান। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি তাঁর অন্যতম বড় সাফল্য অর্জন করেন। কলেজের বিশেষ অন-ক্যাম্পাস নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সিঙ্গাপুরের হেলথটেক স্টার্টআপ নিউরোওয়াইজার-এ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্টার্নশিপের সুযোগ পান। সেখানে তিনি মাসিক ৩,০০০ সিঙ্গাপুর ডলার (প্রায় ২ লক্ষ টাকা) স্টাইপেন্ড পান। এই ইন্টার্নশিপটি সম্পূর্ণ সিঙ্গাপুরে অন-সাইট ছিল। ফলে তিনি আন্তর্জাতিক কর্মপরিবেশে কাজ করার, বিভিন্ন দেশের সহকর্মীদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের এবং দ্রুত বিকাশমান একটি হেলথটেক স্টার্টআপ কীভাবে কাজ করে, তা কাছ থেকে জানার সুযোগ পান।

সৌরাশিস বলেন, “সিঙ্গাপুরে এই ইন্টার্নশিপ আমার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। স্কেলার স্কুল অফ টেকনোলজিতে পড়াশোনার সময় ডেটা স্ট্রাকচার অ্যান্ড অ্যালগরিদম (DSA) এবং ব্যাকএন্ড ডেভেলপমেন্টে যে শক্ত ভিত তৈরি হয়েছিল, পাশাপাশি আগের ইন্টার্নশিপগুলির অভিজ্ঞতা আমাকে আন্তর্জাতিক কর্মপরিবেশে বাস্তব প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার আত্মবিশ্বাস দিয়েছে।”

এই সুযোগটি আসে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে শুধুমাত্র স্কেলার স্কুল অফ টেকনোলজির শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত একটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক ক্যাম্পাস নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। এতে ১০০-রও বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ডেটা স্ট্রাকচার অ্যান্ড অ্যালগরিদম (DSA), মেশিন কোডিং, ব্যাকএন্ডের মৌলিক ধারণা এবং রেজ়িউমে মূল্যায়নের একাধিক ধাপ ছিল। এর মধ্যে মাত্র ৯ জনকে টেকনিক্যাল ইন্টারভিউয়ের জন্য বাছাই করা হয়। শেষ পর্যন্ত মাত্র ২ জন শিক্ষার্থী ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে সংস্থার অফিসে তিন মাসের অন-সাইট ইন্টার্নশিপের জন্য নির্বাচিত হন।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক এই হেলথটেক স্টার্টআপে ব্যাকএন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করার সময় সৌরাশিস এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার ইন্টিগ্রেশন প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন। সংস্থাটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের, যার মধ্যে একাধিক বড় হাসপাতাল নেটওয়ার্কও রয়েছে, পরিষেবা প্রদান করে। তাঁর কাজ ছিল এমন সফটওয়্যার ইন্টিগ্রেশন তৈরি করা, যার মাধ্যমে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলি সংস্থার পেটেন্টপ্রাপ্ত ডিজিটাল ব্রেন ফাংশনিং ও কগনিটিভ স্ক্রিনিং প্ল্যাটফর্মকে সহজেই নিজেদের বিদ্যমান সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করতে পারে।

ইন্টার্নশিপের পাশাপাশি সৌরাশিস ডেল্টা এডুকেশন-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতাও। নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তিনির্ভর কলেজে ভর্তি সংক্রান্ত সহায়তা প্রদানকারী এই প্ল্যাটফর্মটি ২০২৫ সালের শুরু থেকে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা আয় করেছে। এছাড়াও, তিনি ২০২৪ সালের আইসিপিসি রিজিওনাল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার জন্য যোগ্যতা অর্জন করেন, যা স্নাতক হওয়ার আগেই তাঁর শক্তিশালী প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং উদ্যোক্তা মানসিকতার পরিচয় বহন করে।