বড়োসড়ো সাফল্য পেল শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রধান নগর থানার পুলিশ

শিলিগুড়ির সমরনগর এলাকায় একটি ফাঁকা বাড়িতে চুরির ঘটনার অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নেমে চুরির রহস্যভেদ করল প্রধাননগর থানার পুলিশ। বিভিন্ন সূত্র কে কাজে লাগিয়ে দুষ্কৃতি দের তথ্য জোগাড় করে সংশোধনাগার থেকে অভিযুক্ত চোরকে ‘সুন অ্যারেস্ট’ করে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বিধাননগর এলাকা থেকে চোরাই সোনা ও রুপোর ক্রয়কারী এক রিসিভারকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রধান নগর থানার পুলিশ জানিয়েছে এই তদন্ত এবং অভিযানে উদ্ধার করেছে প্রায় ৩০ গ্রাম সোনা, ৪৫ গ্রাম রূপো এবং নগদ ২০ হাজার টাকা। শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৯শে মার্চ সমরনগর এলাকার একটি ফাঁকা বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। পরদিনই বাড়ির মালিক সম্পা রায় গুহ চুরির ঘটনা নিয়ে প্রধাননগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

তদন্ত চলাকালীন প্রধাননগর থানার অ্যান্টি ক্রাইম উইং এর পুলিশ জানতে পারে, ওই চুরির ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন পঙ্কজ রায়কে ইতিমধ্যেই ১৮ই এপ্রিল অন্য একটি মামলায় ভক্তিনগর থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে এবং জলপাইগুড়ি আদালতে তোলার পর সে রয়েছে সংশোধনাগারে। এরপর আদালতের নির্দেশে ১৪ মে প্রধাননগর থানার পুলিশ জলপাইগুড়ি সংশোধনাগার থেকে পঙ্কজ রায়কে ‘সুন অ্যারেস্ট’ করে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে আসে। পুলিশি জেরায় পঙ্কজ রায় চুরির ঘটনার কথা স্বীকার করে। পঙ্কজের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ বিধাননগর এলাকা থেকে শ্যামল মণ্ডল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে, যে এই চুরি করা সোনা এবং রুপো কিনেছিলেন বলে অভিযোগ। এরপর দুই অভিযুক্তের বক্তব্য এবং তদন্তের সূত্র ধরে পুলিশ উদ্ধার করে প্রায় ৩০ গ্রাম সোনা, ৪৫ গ্রাম রূপো এবং ২০ হাজার টাকা নগদ।

বৃহস্পতিবার প্রধাননগর থানার আইসি বাসুদেব সরকার সাংবাদিক সম্মেলন করে গোটা ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংবাদ মাধ্যমে তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমানে চোরেরা বিশেষ করে ফাঁকা বাড়িগুলোকেই টার্গেট করছে। তাই বাড়ির সদস্যরা বাইরে গেলে সম্পূর্ণ বাড়ি ফাঁকা না রেখে অন্তত একজন সদস্যকে বাড়িতে রাখার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার এবং সন্দেহজনক ব্যক্তিদের গতিবিধি নজরে এলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান আইসি প্রধান নগর বাসুদেব সরকার।পুলিশের এই তদন্ত ও অভিযানে চুরির ঘটনার দ্রুত রহস্যভেদ হওয়ায় খুশি ওই গৃহবধূ। তদন্তকারী পুলিশ অফিসারদের দাবি, অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও কয়েকটি চুরির ঘটনার সূত্র মিলতে পারে।