উত্তরকন্যায় মুখ্যমন্ত্রীর হাই-লেভেল প্রশাসনিক বৈঠক : উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশ

উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক সদর দফতর ‘উত্তরকন্যায়’ আজ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী  সভাপতিত্বে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। এই বৈঠকে উত্তরবঙ্গের সবকটি জেলার জেলাশাসক (DM), পুলিশ সুপার (SP), বিভিন্ন দফতরের সচিব এবং শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকেরা সশরীরে ও ভার্চুয়াল মাধ্যমে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি, সরকারি পরিষেবা বণ্টন এবং বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে তার বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।

প্রশাসনিক বৈঠকের প্রধান প্রধান দিক:

উত্তরকন্যা সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী আমজনতার কাছে সরাসরি সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলি হলো—

সরকারি প্রকল্পের পর্যালোচনা: ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’, ‘কৃষক বন্ধু’ ও ‘সবুজ সাথী’র মতো জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলির সুবিধা উত্তরবঙ্গের প্রত্যন্ত এলাকা ও চা বলয়ের প্রতিটি যোগ্য মানুষের কাছে সময়মতো পৌঁছাচ্ছে কি না, তার নিবিড় পর্যালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

বর্ষার প্রস্তুতি ও বিপর্যয় মোকাবিলা: উত্তরবঙ্গে বর্ষার মরশুমে বন্যা ও ধসের (Landslide) মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় সেচ দফতর ও বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরকে এখন থেকেই সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চা বাগান এলাকার উন্নয়ন: চা বাগানগুলিতে পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং রাস্তাঘাটের মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের দ্রুত পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে।

কাজে ঢিলেমি বরদাস্ত নয়, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

বৈঠকে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কাজ থমকে থাকা বা ধীরগতিতে চলা নিয়ে কিছু দফতরের আধিকারিকদের প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, সাধারণ মানুষের কাজে কোনও রকম আলসেমি বা ঢিলেমি কোনো স্তরেই বরদাস্ত করা হবে না। যে সমস্ত প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে, সেগুলি নির্দিষ্ট সময়সীমার (Deadline) মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেন তিনি।

এর পাশাপাশি, উত্তরবঙ্গের সীমান্ত জেলাগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কর্তাদের বিশেষ নির্দেশ জারি করা হয়েছে। এই হাই-প্রোফাইল বৈঠককে কেন্দ্র করে এদিন উত্তরকন্যা চত্বরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক তৎপরতা ছিল তুঙ্গে।