আয়নার মায়াজালে দেবী দুর্গা, প্রগতি সংঘের এবারের বিশেষ আকর্ষণ ‘রূপদর্পণ’

দূর থেকে দেখলে মনে হবে, বসিরহাটেই যেন গড়ে উঠেছে এক টুকরো ‘শীষ মহল’। আয়না ও দর্পণের নান্দনিক কারুকাজের মাধ্যমে দেবী দুর্গার অপরূপ রূপ দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরতে চলেছে বসিরহাট পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের আস্তানা রোড সংলগ্ন প্রগতি সংঘ। এবারের দুর্গাপুজোয় তাদের থিমের নাম ‘রূপদর্পণ’। থিমের অভিনবত্বে ইতিমধ্যেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে শহরজুড়ে।

গত কয়েক বছরে দুর্গাপুজোর থিম ভাবনা কলকাতার পাশাপাশি শহরতলি ও গ্রামাঞ্চলেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। শিল্পভাবনা, মণ্ডপসজ্জা ও দর্শক আকর্ষণের দিক থেকে কলকাতার বড় পুজোগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে বহু পুজো। সেই তালিকায় বরাবরই উল্লেখযোগ্য স্থান ধরে রেখেছে বসিরহাটের প্রগতি সংঘের পুজো। এ বছরও ব্যতিক্রম হচ্ছে না।

উদ্যোক্তাদের দাবি, প্রগতি সংঘের প্রায় ৭০ ফুট উঁচু মণ্ডপে ফুটিয়ে তোলা হবে ‘শীষ মহল’-এর আদলে এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্যপট। অসংখ্য আয়নার প্রতিফলনে দেবী দুর্গার রূপ দর্শনার্থীদের সামনে ধরা দেবে এক অনন্য অনুভূতিতে। শুধু মণ্ডপ নয়, প্রতিমাতেও থাকছে নতুনত্বের ছোঁয়া, যা দর্শকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করবে বলেই মনে করছেন উদ্যোক্তারা। মণ্ডপ চত্বরকে ঘিরে তৈরি করা হবে আলোর ঝলমলে আবহ। খুঁটি পূজার সময় থেকেই সেই প্রস্তুতির ইঙ্গিত মিলেছে। উদ্যোক্তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সন্দেশখালির বিধায়ক সনৎ সর্দার ও বিশিষ্ট সমাজসেবী তাপস ঘোষ সহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

প্রতিবছরই দুর্গাপুজোর সময় বসিরহাট শহর ও আশপাশের এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষের ভিড় নামে আস্তানা রোডের এই পুজোমণ্ডপে। গোটা বছর ধরে যে উৎসবের অপেক্ষায় থাকেন বাঙালি, সেই দুর্গোৎসবকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে এবার রূপদর্পণের মাধ্যমে চমক দিতে চলেছে প্রগতি সংঘ।

সব মিলিয়ে, আয়নার প্রতিফলনে দেবী দর্শনের অনন্য অভিজ্ঞতা, বিশাল মণ্ডপ, আলোর নান্দনিক সাজ এবং শিল্পসম্মত উপস্থাপনায় এবারের দুর্গাপুজোয় বসিরহাটের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠতে চলেছে আস্তানা রোড প্রগতি সংঘের ‘রূপদর্পণ’। দর্শনার্থীদের জন্য এখন শুধু অপেক্ষা মহালয়ার পর সেই স্বপ্নের শীষ মহলকে চোখের সামনে দেখার।