অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রমের জোরে অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখালেন ওড়িশার ১৮ বছর বয়সী তরুণী পায়েল নাগ। ওড়িশার বালাঙ্গিরের এক দিনমজুর পরিবারে জন্ম নেওয়া পায়েল আজ কেবল একজন প্রতিবন্ধী নন, বরং এক গর্বিত স্বর্ণপদকজয়ী প্যারা তিরন্দাজ। জীবনের সমস্ত প্রতিকূলতাকে জয় করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন তিনি।
পায়েলের জীবনের গল্পটি ছিল আর পাঁচটা সাধারণ শিশুর মতোই। আট বছর বয়স পর্যন্ত তিনি স্বাভাবিকভাবেই বড় হচ্ছিলেন। কিন্তু একটি ভয়াবহ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার দুর্ঘটনা তাঁর জীবনকে আমূল বদলে দেয়। সেই দুর্ঘটনায় পায়েল তাঁর দুই হাত এবং দুই পা হারিয়ে ফেলেন। কিন্তু এই শারীরিক অক্ষমতা তাঁর মনের জোরকে দমাতে পারেনি। শিশু আবাসে বড় হওয়ার সময় থেকেই তিনি নতুন করে জীবন গড়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন।
তিরন্দাজির জগতে পায়েলের প্রবেশ ছিল অনেকটা আকস্মিক। যে শরীরে হাতের অস্তিত্ব নেই, সেই শরীরে ধনুর্বিদ্যা আয়ত্ত করা ছিল এক অকল্পনীয় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু কোচের প্রশিক্ষণ এবং নিজের নিরলস প্রচেষ্টায় তিনি মুখে বা শরীরের বিশেষ কৌশলে তির চালানো রপ্ত করেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই তিনি অর্জন করেছেন তাঁর জীবনের প্রথম আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদক। সমাজের অবহেলা আর করুণার দৃষ্টি সরিয়ে পায়েল আজ অনুপ্রেরণার অন্য নাম। তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্য প্রমাণ করে দিল যে, যদি লক্ষ্য স্থির থাকে তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কখনও সাফল্যের পথে বাধা হতে পারে না।
