প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি মাত্র মন্তব্যেই দেশের স্বর্ণবাজারে কার্যত ভূমিকম্প শুরু হয়েছে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার (ফরেক্স) সুরক্ষিত রাখতে দেশবাসীকে আগামী এক বছর সোনা কেনায় লাগাম টানার আবেদন জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। আর তার ঠিক পরেই শেয়ার বাজারে হুড়মুড়িয়ে ধস নামল দেশের প্রথম সারির তিন গয়না প্রস্তুতকারী সংস্থা— টাইটান, কল্যাণ জুয়েলার্স এবং সেনকো গোল্ডের শেয়ারে।
গত সোমবার ও মঙ্গলবার— এই দুই দিনের টানা পতনে সংস্থাগুলি তাদের সম্মিলিত বাজার মূলধন থেকে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা হারিয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, সপ্তাহের শুরুতেই শেয়ার বিক্রির চাপে টাইটানের দর ৭ শতাংশ পড়ে যায়, মঙ্গলবার যা আরও ৪ শতাংশ হ্রাস পায়। একই চিত্র কল্যাণ জুয়েলার্স ও সেনকো গোল্ডের ক্ষেত্রেও। কল্যাণ জুয়েলার্সের শেয়ার দর দু’দিনে প্রায় ১৫ শতাংশ এবং সেনকো গোল্ডের দর ১৫ শতাংশের বেশি কমেছে।
হায়দরাবাদের একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের আবহে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও আমদানি খরচ বাড়ছে। ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমাতে সোনা আমদানিতে রাশ টানা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানের পরেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে এই সংস্থাগুলির শেয়ার দরে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং লগ্নিকারীদের আস্থা ফেরাতে মঙ্গলবারই গয়না সংস্থাগুলির প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করেছেন বলে জানা গিয়েছে। সোনার বাজারে এমন নজিরবিহীন অস্থিরতা খুচরো বিক্রেতা থেকে শুরু করে বড় শিল্পগোষ্ঠী— সকলের কপালেই চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
