টানা বৃষ্টিতে বি*পর্যস্ত সিকিম! 

টানা বৃষ্টির মধ্যেই ফের বড়সড় ধসের আতঙ্ক পশ্চিম সিকিমে। ইয়ুকসোম-তাশিডিং বিধানসভা এলাকার রিম্বি গ্রামে নতুন করে ধস নামায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পাহাড়ের ঢাল থেকে বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর, মাটি ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ নেমে আসছে। পরিস্থিতির সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, ধসের গতিপথ ক্রমশ রিম্বি গ্রামের দিকে ঘুরে যাওয়ায় একাধিক বসতবাড়ি এখন বিপদসীমার মধ্যে চলে এসেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

২৪ সেপ্টেম্বরের এই ঘটনায় এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ধসের একটি নতুন অংশে পাহাড়ের উপর থেকে মাটি, বড় পাথর এবং ধ্বংসাবশেষ নিচের দিকে গড়িয়ে আসতে দেখা গিয়েছে। পাহাড়ের ঢালে মাটির নড়াচড়া এখনও অব্যাহত থাকায় যেকোনও সময় আরও বড় ধস নামতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মুকসাম লিম্বু, সুদীপ লিম্বু এবং অশোক রাইয়ের বাড়ি-সহ বেশ কয়েকটি বাড়ি বর্তমানে ধসের সম্ভাব্য বিপজ্জনক এলাকার মধ্যে রয়েছে। ধসের মাটি ও ধ্বংসাবশেষ আরও নিচের দিকে নেমে এলে বাড়িগুলির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ইতিমধ্যেই কয়েকজন বাসিন্দা নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বাড়ি থেকে সরিয়ে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যেতে শুরু করেছেন। বাড়িঘর ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয়রা।

শুধু বসতবাড়ি নয়, ধসের জেরে এলাকার স্বাভাবিক যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও প্রভাব পড়েছে। পাহাড়ি এলাকায় মাটি ও ধ্বংসাবশেষের নড়াচড়া অব্যাহত থাকায় স্থানীয়দের চলাচলেও তৈরি হয়েছে ঝুঁকি। লাগাতার বৃষ্টির কারণে নতুন করে মাটির ধস এবং কাদার স্রোত নেমে আসার আশঙ্কা থাকায় পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছেন বাসিন্দারা।

রিম্বি গ্রামের বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে ধসের গতিপথ। প্রথমে পাহাড়ের ঢালে শুরু হওয়া ধস এখন গ্রামের দিকে এগিয়ে আসায় আতঙ্ক বেড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বৃষ্টি আরও বাড়লে মাটি আলগা হয়ে ধসের পরিমাণ এবং গতি দু’টোই বাড়তে পারে। সেই কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অনেকে।

পশ্চিম সিকিমের পাহাড়ি এলাকায় টানা বৃষ্টির মধ্যে রিম্বি গ্রামের এই নতুন ধস ফের স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলা এবং স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনে চলার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আপাতত ধসের গতিবিধি, বৃষ্টির পরিস্থিতি এবং গ্রামের দিকে মাটি-পাথরের প্রবাহের উপর নজর রাখা হচ্ছে।