ক্যানসারেও থামেনি তাঁর সুর, মণিপাল হসপিটাল রাঙাপানিতে আবার কণ্ঠ ফিরে পেলেন এক সংগীত শিক্ষক

উত্তরবঙ্গের অন্যতম শীর্ষ ক্যানসার চিকিৎসা কেন্দ্র এবং পূর্ব ভারতের অন্যতম বৃহৎ স্বাস্থ্যসেবা গোষ্ঠী মণিপাল হসপিটালস গ্রুপের একটি ইউনিট, মণিপাল হসপিটাল রাঙাপানি সফলভাবে চিকিৎসা করেছে ৭১ বছর বয়সী কুচবিহারের বাসিন্দা এবং সম্মানিত সংগীত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্রী অমলেশ চৌধুরীর। তিনি গলা ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন, যা শুধু তাঁর স্বাস্থ্যের জন্য নয়, তাঁর জীবন ও পরিচয়ের মূল ভিত্তি—তাঁর কণ্ঠস্বর—কেও বিপদের মুখে ফেলেছিল। সময়মতো চিকিৎসার জন্য তিনি মণিপাল হসপিটাল রাঙাপানির শরণাপন্ন হন, যেখানে রেডিয়েশন অনকোলজির কনসালট্যান্ট ডা. সৌরভ গুহর তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। একজন নিবেদিতপ্রাণ গায়ক ও পথপ্রদর্শক হিসেবে শ্রী চৌধুরী বহু দশক ধরে তরুণ প্রতিভা গড়ে তুলেছেন এবং সংগীতের আনন্দ ছড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘদিনের গলার অস্বস্তি ধীরে ধীরে গুরুতর সমস্যায় রূপ নেয়, যা শেষ পর্যন্ত ক্যানসার হিসেবে ধরা পড়ে। এরপর শুরু হয় এক কঠিন লড়াই। শারীরিক দুর্বলতা এবং মানসিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও বারবার চিকিৎসার জন্য যাতায়াত করতে হয়েছে তাঁকে। তিনি ৩০টি রেডিয়েশন থেরাপি সেশন এবং ৫টি কেমোথেরাপি সাইকেল সম্পন্ন করেন। চিকিৎসার কঠোরতা সত্ত্বেও তাঁর মনোবল কখনও ভেঙে পড়েনি।

এই কঠিন সময়জুড়ে চিকিৎসক দল নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, সহানুভূতিশীল যত্ন এবং সুসংগঠিত চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে শুধু রোগ মোকাবিলাই নয়, তাঁর জীবনযাত্রার মান এবং কণ্ঠস্বর বজায় রাখার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেয়। এই বিষয়ে ডা. সৌরভ গুহ, কনসালট্যান্ট, রেডিয়েশন অনকোলজি, মণিপাল হসপিটাল রাঙাপানি বলেন, “গলার ক্যানসার বিশেষভাবে মানসিকভাবে কষ্টদায়ক হতে পারে, বিশেষ করে যাঁদের ব্যক্তিগত এবং পেশাগত জীবন কণ্ঠস্বরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। এই ক্ষেত্রে ৩০টি রেডিয়েশন এবং ৫টি কেমোথেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়েছে, যা বিশেষত বয়স্ক রোগীদের জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তবে তাঁর শৃঙ্খলা, মানসিক দৃঢ়তা এবং ইতিবাচক মনোভাব চিকিৎসার ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ছিল শুধু ক্যানসার নিরাময় নয়, তাঁর কণ্ঠস্বর যতটা সম্ভব সংরক্ষণ করা। দ্রুত রোগ নির্ণয়, সমন্বিত চিকিৎসা পদ্ধতি এবং রোগীর অদম্য ইচ্ছাশক্তির ফলে আমরা সফল ফলাফল অর্জন করতে পেরেছি। এটি প্রমাণ করে যে সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা পেলে রোগীরা আবারও স্বাভাবিক ও অর্থবহ জীবনে ফিরতে পারেন।”

নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে শ্রী অমলেশ চৌধুরী বলেন, “যখন আমার ক্যানসার ধরা পড়ে, তখন আমার সবচেয়ে বড় ভয় ছিল আমি হয়তো আর কোনওদিন কথা বলতে বা গান গাইতে পারব না। সংগীত শুধু আমার পেশা নয়, এটাই আমার পরিচয়। চিকিৎসার সময়টা খুব কঠিন ছিল—যাতায়াত, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সব মিলিয়ে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। অনেক সময় মনে হয়েছে পারব না, কিন্তু ডাক্তারদের উৎসাহ এবং যত্ন আমাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। যেদিন আবার গান গাইতে পারলাম, মনে হয়েছিল আমি যেন নিজেকে আবার ফিরে পেয়েছি। আজ আমি আবার আমার ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে আছি, ভ্রমণ করছি, অনুষ্ঠান করছি এবং কৃতজ্ঞতার সঙ্গে জীবন কাটাচ্ছি। ক্যানসার আমাকে অনেকভাবে পরীক্ষা নিয়েছে, কিন্তু আমার কণ্ঠ বা মনোবল কেড়ে নিতে পারেনি। এই নতুন জীবনের জন্য আমি কৃতজ্ঞ।”