পেটের মেদেই লিভারের ঝুঁকি! সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা

নাদুসনুদুস ভুঁড়ি মানেই সুখী পুরুষের লক্ষণ। বাঙালি পরিবারে এই কথা বেশ প্রচলিত। তবে চিকিৎসকদের মতে, এই ভুঁড়িতেই লুকিয়ে থাকতে পারে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে মেদ জমা স্বাভাবিক ব্যাপার। কখনও তা নরম আবার কখনও শক্তপোক্ত। পেটের মেদ, বিশেষত শক্তপোক্ত ভুঁড়ি ভিসেরাল ফ্যাটের ইঙ্গিত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভিসেরাল ফ্যাট লিভার, পাকস্থলী, অন্ত্র এবং অগ্ন্যাশয়ের চারপাশে জমে। এর ফলে শরীরে প্রদাহজনিত রাসায়নিক নির্গত হয়, যা রক্তের সঙ্গে মিশে ধীরে ধীরে লিভারের ক্ষতি করে।
চিকিৎসকদের মতে, কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয় :
১) অনিয়মিত মদ্যপান
অনেকেই মনে করেন সপ্তাহান্তে সীমিত মদ্যপান ক্ষতিকর নয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত বা সপ্তাহে দু’দিন মদ্যপান লিভারের উপর চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে লিভারে ফ্যাট জমার প্রবণতা বাড়ে।
২) চিনি ও ফ্রুক্টোজযুক্ত পানীয় বিপজ্জনক
কার্বনেটেড পানীয় বা অতিরিক্ত চিনি মেশানো ড্রিঙ্ক লিভারের জন্য ক্ষতিকর। ফ্রুক্টোজ সরাসরি চর্বিতে পরিণত হয়ে ট্রাইগ্লিসারাইড বাড়ায়। বিকল্প হিসেবে লস্যি, ঘোল, পাতিলেবুর শরবত বা টাটকা ফলের রস বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
৩) ওষুধ খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাওয়া, বিশেষত মদ্যপানের আগে বা পরে, লিভারের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
৪) প্রক্রিয়াজাত খাবারের বাড়বাড়ন্ত
প্রসেসড খাবার সুস্বাদু হলেও তা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের কারণ হতে পারে। এর ফলে শরীরে ইনসুলিন থাকা সত্ত্বেও তা কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে না। তাই খাদ্যতালিকায় টাটকা শাকসবজি, ফল ও দানাশস্য রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
৫) ভিসেরাল ফ্যাট ও ডায়াবেটিসের যোগসূত্র
পেটে জমা ফ্যাট ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায় এবং তার প্রভাব পড়ে শরীরের অন্যান্য অঙ্গেও।
তাই পেটে মেদ জমলে সতর্ক হওয়া জরুরি। নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।