সাহিত্য

নুন(পর্ব ২ )

নুন(পর্ব ২ )

কিন্তু শক খেলাম ২০০২ সালে। দু মানুষ উঁচু আর তিন মানুষ চওড়া। কিলোমিটার হিসেবে লম্বায় প্রায় কলকাতা থেকে আগ্রা। পুরোটাই ঘন কাঁটাগাছের বেড়া। যে কাঁটাগাছের বেড়া তৈরি করতে ব্যয় হয়েছিল অনেক পরিশ্রম। ১৮৬৯ সালে শুধু দেড় হাজার টন কাঁটাগাছ এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিয়ে গিয়ে এই বেড়া তৈরি করা হয়েছে । কয়েক হাজার সেপাই অতন্দ্র প্রহরায় রয়েছে যাতে এই কাঁটাগাছের বেড়া পেরিয়ে কেউ একশো গ্রাম লবণও এদিক থেকে ওদিকে না নিয়ে যেতে পারে। অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে তো? দাঁড়ান, দাঁড়ান! ব্রিটিশ শোষণের গল্প কি শেষ হওয়ার? ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এবং কলোনিয়াল ব্রিটিশ গভর্নমেন্টের  তৈরি এই গ্রেট হেজ অফ ইন্ডিয়া (great…
Read More
নুন (প্রথম পর্ব)

নুন (প্রথম পর্ব)

বলুন দেখি, ভারত ভাগ কবে প্রথম হয়েছিল ? জানি, আপনি হৈ হৈ করে বলে উঠবেন - ১৯৪৭ এ! উঁহু! যদি বলি ১৮২৩, খুব অবাক হবেন, না ? দুদিকের ডানা কাটা নয়, পাকিস্তান বাংলাদেশ ছেঁটে ফেলা নয়, আজকের ভারতের বুক চিরে দেওয়া হয়েছিল কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে । উত্তর থেকে দক্ষিণ! যাতে এদিক থেকে ওদিক একটা জিনিস না যেতে পারে কি সেই জিনিস ? নুন, হ্যাঁ আমাদের জীবনের অন্যতম অপরিহার্য উপাদান, লবণ! আজকে যে লবণ আপনি পাড়ার মুদি দোকান থেকে আনেন সে লবণের প্রতিটি গুঁড়োয় মিশে আছে রোমহর্ষক ইতিহাস। চীনের প্রাচীর থেকে শুরু করে ফ্রেঞ্চ রেভোলুশন। গুপ্ত সাম্রাজ্য থেকে শুরু করে ব্রিটিশ…
Read More
ফাঁদ

ফাঁদ

-গুড মর্নিং স্যার! -ও তুমি এসেছ তিতাস? শরীর কেমন আছে তোমার? -আগের থেকে বেটার। তবে উইকনেস পুরোপুরি কাটেনি এখনও। -উফ, এই কোভিড যা খেল দেখাচ্ছে! জানিনা আর কত প্রাণ কেড়ে নেবে এই মানুষ খেকো ভাইরাস? যাই হোক, খাওয়া দাওয়া ঠিক মতো করছ তো? -হ্যাঁ স্যার, করছি। আপনি তো জানেন স্যার আমার বাবা নেই। বাড়িতে শুধু মা আর ভাই। ওদের নিয়ে খুব চিন্তায় ছিলাম। তবে আমাদের বাড়িওয়ালা কাকু-কাকিমা এই কঠিন সময়ে ভীষণ সাহায্য করেছেন। হোম আইসলেশানে থাকার সময় বাজার-হাট সব ওঁরাই করে দিতেন। ভাগ্যিস আমি ছাড়া আর সবার টেস্ট রিপোর্ট নেগেটিভই ছিল। -ভাগ্য সত্যিই সহায় তোমাদের। নাহলে এই ছোঁয়াচে ভাইরাস, গোটা…
Read More
মিলবে দুটোমন

মিলবে দুটোমন

স্বতন্ত্রতা ভালোবাসায় থাকুক, বুকের তলে অন্ধ হবো আজ, বর্তমানটা তোমার সাথেই কাটুক,  ঝড়ের রাতে জাপটে ধরি, একটা পড়ুক বাজ। বার্ষিকী হোক তোমায় ছোঁয়ার দিন, ঠোঁট সরিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী আলো, ভুবনমোহিনী হাসির অন্তরালে , ফেরার সময় রাস্তা বদলালো। দৈনিক প্রেম , মরসুম জুড়ে থাকে,  আবেগের রোজ কত আবেদন, সহজ কথায় ভুলিয়ে দিতে পারি,  ভীড়ের শহর,  মিলবে দুটোমন।।
Read More
বাঁচা 

বাঁচা 

- বলছি বিয়ে টিয়ে করেছো ? - নাহ - বলো কি তোমার মতো এলিজিবল ব্যাচেলর! - সবার কি আর সব কিছু হয় স্যার ? আমার নাইটহুড নেই তাই স্যার বললে বেশ অস্বস্তি হয়।  ইংল্যান্ডে দেখেছি বৃদ্ধ প্রফেসরকেও নাম ধরে ডাকে। কিন্তু আমাদের সংস্কৃতি আলাদা। তাই হজম করে নিয়েই বললাম - কেন ? বি ফার্ম করে অসীম এখন মাল্টিন্যাশনাল ওষুধ কোম্পানির রিজিওনাল ম্যানেজার। ক্লিন শেভেন, ফর্সা , সুঠাম মুগুর ভাঁজা চেহারা।  সেই মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় থেকে দেখছি।  এ কোম্পানি ছেড়ে ও কোম্পানি জয়েন করলেও আমি দেশে ফেরার পরেও আমার সাথে রেগুলার দেখা করতে আসে।  কালে ভদ্রে ওর ওষুধ লিখতে হয়। …
Read More
কথাদের ভবিষ্যৎ

কথাদের ভবিষ্যৎ

আমরা দীর্ঘদিন চুপ করে আছি, দেখা আর কথার মাঝে আমাদের দূরত্বটা ঠিক হাওড়া ব্রিজ থেকে হুগলি সেতুর মতো, গঙ্গার গরম সবুজ স্রোতের সাথে ভেসে যাওয়া পবিত্রতা অথবা কালিঝোড়ার ঠান্ডা বরফগলা নীলচে জলে বয়ে চলা পাথরের স্পর্শের মতো নাতিশীতোষ্ণতা ছুঁয়ে যায় আমাকে। আমাদের কথারা অন্ধকার ভালোবাসে, আর আমাদের ভবিষ্যৎ আমাদের কথাদের ভালোবাসে ..........
Read More
বেওয়ারিশ

বেওয়ারিশ

মানুষ লাশ হলে ভারী হয়। কে না জানে? কিন্তু তাই ব`লে এতটা! প্যাডেলে আরও একটু জোরে চাপ দেয় গনা। সময় মতো পৌঁছতে না পারলে নাহাবাবুর কথা শুনতে হবে। অবশ্য লখনা যখন তাকে খবর দিয়েছিল তখনই বোধহয় লাশটার দিন কুড়ি হয়ে গেছে। লখনার সঙ্গে নাহাবাবুর কী চুক্তি, সেটা প্রাণের বন্ধু হয়েও লখনা কোনদিন খোলসা করে নি। তবে গনাকে খারাপ পয়সা দেয় না সে। গনা বোঝে যে, লখনা নাহাবাবুর কাছ থেকে বেশ ভাল টাকা পায়। না হলে শুধু বইবার জন্য তাকে এতগুলো টাকা দিত না। অবশ্য এই কাজে ঝুঁকি বিরাট। কখন কোথায় কে ধরে বসবে তার ঠিক নেই। গনা তাই সাবধানে দেখেবুঝে…
Read More
সকলের অন্তরেই সমাহিত বুদ্ধ

সকলের অন্তরেই সমাহিত বুদ্ধ

আমাদের প্রত্যেকের অন্তরেই বুদ্ধ সমাহিত l তাঁকে পেতে শুধু "আপনারে করো উন্মোচন " l নিজেকে জানতে গিয়ে নিজের অন্তরে অধি আত্মিক পরম জ্ঞানের অনুভূতি হওয়া প্রত্যেক আত্মজ্ঞানী ব্যক্তিমাত্রই তো বুদ্ধ ll এই বুদ্ধত্ব প্রাপ্তি বা বোধি জ্ঞান লাভের জন্যে একান্ত প্রয়োজন কেবল নিজের প্রবল থেকে প্রবলতম মনের ইচ্ছে l যে ইচ্ছে শক্তির সমানে যদি ঈশ্বর বলে কেও থেকেও থাকেন সেই সর্বশক্তিমানও বিরুদ্ধাচারণ করতে পারেন না l যখন বুদ্ধদেবকে তাঁর সকল গুরু এই বোধি জ্ঞান প্রদান করতে অসর্মথ হয়েছিলেন, তখন নিজের কঠোর কৃচ্ছসাধনা, ত্যাগ, তিতিক্ষা আর মনের জোরে নিজের শরীরকেও উপেক্ষা করে একাগ্র চিত্তে দীর্ঘ সাধনার পরই তিনি বোধিসত্ত্ব প্রাপ্ত হয়েছিল…
Read More
উদযাপন

উদযাপন

আমি মনে মনে তোমার সঙ্গে সংসার করি সংসার করি বেশ কিছু বছর ধরে অথচ আমরা কেউ কাউকে কখনও তুমি বলে সম্বোধন করতে পারিনা। ঘুম থেকে ডেকে দাও পরিপাটি করে গুছিয়ে দাও অফিসের টিফিন সন্ধ্যায় ফিরে এলে আমি চা বানিয়ে আনি আমাদের দুজনের জন্য অথচ এতবছর আমি তোমার সঙ্গে মনে মনে সংসার করার পর মনে হচ্ছে আমার আর কোনো সংসারের প্রতি মন নেই কেবল তোমার কাছে গেলেই ধ্বংসাবশেষ নিয়ে ফিরে আসছি...
Read More
প্রেম-টেম

প্রেম-টেম

এখনো এসব খাস? -হ্যা!  সবাই ছেড়ে চলে যায় কিন্তু এ কখনো যায় নাহ্! কি পাস এসব খেয়ে? ক্ষতি ছাড়া তো কিছুই হয় না। - ক্ষতি তো আগেও হয়েছে এটা নতুন করে আবার কি ক্ষতি করবে? কথাটা শেষ হতে না হতেই রিয়া নীলের থেকে সিগারেটটা নিয়ে ফেলে দিলো,  আর বললো কেউ কোথাও যায় নি সব একই জায়গায় আছে, সব তোরই আছে এখনো, শুধু সময় তোর পরীক্ষা নিয়ে চলছিলো এতদিন।। আজ প্রায় চারবছর পর নীল আর রিয়ার দেখা, তারা একে অপরকে ভালোবাসতো কিন্তু অনেক কারণে তারা সেই সম্পর্ক থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছিলো। বেস্ট জুটি হিসেবে তারা বন্ধুমহলে সর্বোচ্চ আসনে আসীন ছিলো।…
Read More
বর্ষা যাপন

বর্ষা যাপন

কোন এক অভিমানী নক্ষত্রহীন রাতে, ভিজে যাওয়া অমাবস্যা চুপি চুপি নামে। নীলাভ শার্সির এক কোণে, নিশ্চুপে চলে বর্ষার আঁকিবুকি খেলা। গাঢ় কালো অবেলায়, বোবা চাহনিতে মুছে যাওয়া স্বপ্নের স্মৃতি- কখনও সখনও ফিরে ফিরে আসে। শুধুই সাক্ষী থাকে বর্ষার জলছবি। আটপৌরে বৃষ্টির গন্ধে, মাতোয়ারা সাদা ক্যানভাসে- ভেসে ওঠে কেবলই শূন্যতা। এ শুধুই নীরব বর্ষা যাপন।
Read More
ফাদার্স_ডে

ফাদার্স_ডে

- ও বাবা, বাবা! হ্যাপী ফাদার্স ডে। - এত ভালোবাসা কেন?! তুমি প্রত্যেকবার অঙ্কে পান্তুয়া পাবে আর আমি প্রত্যেকবার তোমার খাতায় সই করে দিতে পারব না। - আরেহ্, বাবা… - না না! এর আগেরবার অঙ্কে পঁচিশে সাড়ে তিন পেলি! কি করে পেলি?! - সাড়ে তিন মোটেও পাই নি আমি। - একদম বাড়িয়ে বলবি না নম্বর। আমার মনে আছে তুই সাড়ে তিন পেয়েছিলি। - নাহ্ আমি সাড়ে তিন পাই নি। তুমি ভুলে গেছ! - আমি ভুলে যাব? আমি তোর বাবা না তুই আমার বাবা?! কে বাবা?! - তুমি আমার বাবা! কিন্তু তুমি তাও ভুল বলছ! আমি সাড়ে তিন পাই নি! অনেকদিন…
Read More
গুরুদায়িত্ব

গুরুদায়িত্ব

ছাদে নাতনিকে কোলে নিয়ে উদ্বিগ্নভাবে পায়চারী করছিলেন সুমনবাবু। --- চাকরি পেয়ে ছেলে এখন পাকাপাকি ভাবে কোলকাতাবাসী। পারিবারিক কলহের জেরে একমাত্র ছেলের সঙ্গে এখন আর কোনো বনিবনা নেই। তবুও তো সে নিজের ছেলে, তাই দুঃখ পেলেও মনে মনে সবকিছু মানিয়ে নিয়েছেন।  ইদানিং সুমনবাবুর মনটা খুব একটা ভালো নেই। --- “আচ্ছা দাদু তারাগুলো অত ছোট ছোট হয় কেন? আর আকাশে কি সুন্দর মিটিমিটি করে জ্বলে? কিভাবে গো!’’, আদুরে মিষ্টি গলায় বলল মামন। সুমনবাবু বললেন, ‘’ওরা তো অনেক দূরে থাকে তাই, তাছাড়া তোমার ঠাম্মি রোজ সন্ধ্যায় গিয়ে ওদের আলো জ্বালিয়ে দিয়ে আসেন।‘’ মামন সাগ্রহে বলল, ‘’কোনটা ঠাম্মি?” সাঁঝ-আকাশে পশ্চিমের উজ্জ্বল সন্ধ্যেতারাটাকে দেখিয়ে সুমনবাবু…
Read More
গঙ্গার মা

গঙ্গার মা

গঙ্গার মা, কাল একটু তাড়াতাড়ি আসবে তো, কত করে বলে দিলাম দাদাবাবুর আজ অফিসের মিটিং আছে, সন্তুর ইন্টারভিউ, মিন্টুর স্কুলে টেস্ট শুরু হবে।কথাটা বলছিলেন দে বাড়ির কত্রী  মনিকা দেবি।তোমাকে এতো করে বললাম তুমি শুনলেনা।অথচ কোনো কিছুর তো বাদ নেই, বৌদি কাল আসবো না আমার ননদ আসবে, পরশু  আমার পেট ব্যাথা করছিলো হাসপাতালে গিয়েছিলাম, তরশু গঙ্গার স্কুল থেকে ডেকে ছিলো, এবার কামাই করলেই মাইনে থেকে কেটে নেবো। গঙ্গার মা চুপ করে কাজে লেগে গেলো। মধ্যিখানে বাড়ির কর্তা রাজীব বাবু বলে উঠলেন ওর কথাটাও তো একটু শোনো,কি জন্য দেরি হলো----কথা টা শেষ হতে না দিয়ে মনিকা চেঁচিয়ে উঠলো, তুমি একদম চুপ করে…
Read More