বাঙালিদের খাওয়া-দাওয়া কাঁচা লঙ্কা ছাড়া অসম্পূর্ণ। সবজি বা তরকারিতে ব্যবহৃত কাঁচা লঙ্কা কোন দোকানে গিয়ে কিনে না এনে নিজের বাড়ির বাগান থেকে সরাসরি তুলে ব্যবহার করুন। অতি সহজেই নিজের বাড়ির বাগানে লাগিয়ে নিন লঙ্কার গাছ। কেমন করে তার যত্ন নেবেন? পদ্ধতি খুবই সহজ। চলুন জেনে নিই-
ধাপ ১: লঙ্কা গাছ বিশেষত হালকা মাটিতেই সবচেয়ে ভালো বৃদ্ধি পায়। আদর্শ মাটি তৈরি করতে টপের মাটির সঙ্গে কম্পোস্ট, গোবর সার এবং কিছুটা বালি মিশিয়ে নিন। এতে মাটি উর্বরতা বজায় থাকবে ও বাতাস চলাচল করতে পারবে।
ধাপ ২: মাঝারি আকারের মাটির টব নিতে হবে। টবের নিচে যেন অবশ্যই জল বের হওয়ার ছিদ্র থাকে, যাতে অতিরিক্ত জল জমে শিকড়ে পচন না ধরে যায়। তৈরি করা মাটির মিশ্রণ টিকে টবে ভরে, হালকা জল দিয়ে দিন।
ধাপ ৩: নার্সারি থেকে ভালো লঙ্কার চারা কিনে আনতে পারেন অথবা বাড়িতে থাকা কাঁচা লঙ্কা থেকে বীজ সংগ্রহ করুন। বীজ মাটির গভীরে বপন করুন এবং তার উপর পাতলা করে মাটি ছড়িয়ে দিন।
ধাপ ৪: বীজ বপনের পর মাটিকে আর্দ্র রাখতে জল দেবেন, তবে অতিরিক্ত জল দেবেন না। গরমকালে দুবেলা জল দেওয়া ভালো তবে শীতকালে মাটির শুকনোভাব দেখে প্রয়োজন অনুযায়ী জল দিন।
ধাপ ৫: লঙ্কা গাছের জন্য ৫–৬ ঘণ্টা প্রতিদিন সরাসরি সূর্যের আলোর প্রয়োজন। গ্রীষ্মকালের দুপুরের দিকে তীব্র রোদ থাকে বলে গাছকে কিছুটা সুরক্ষা প্রদান করুন। অবশ্য শীতকালে গাছকে বেশি সময় রোদে রাখলে ভালো বৃদ্ধি হবে।
ধাপ ৬: ভালো ফলনের জন্য প্রতি ১৫–২০ দিন অন্তর জৈব সার ব্যবহার করুন। যেমন—কম্পোস্ট, গোবর সার। শীতকালে সরষের খোল সার ব্যবহার করলেও গাছের পুষ্টি বাড়ে।
ধাপ ৭: সাধারণত ৩০–৪০ দিনের মধ্যে লঙ্কা গাছে ছোট ছোট ফুল আসতে শুরু করে। সেই ফুল থেকেই লঙ্কা তৈরি হয়।বর্ষাকালে লঙ্কা গাছে ছত্রাক ও পোকামাকড়ের সমস্যা এড়াতে নিম তেলের দ্রবণ স্প্রে করতে পারেন। সঠিক যত্ন নিলে একটি গাছ ৩–৪ মাস পর্যন্ত ফল দিতে পারে।
