দেশের সাধারণ মানুষের পকেটে আরও কিছুটা চাপ বাড়িয়ে সামান্য বাড়ল খুচরো মুদ্রাস্ফীতির হার। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে খুচরো মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.৪ শতাংশে। মূলত খাদ্যসামগ্রীর দামের ঊর্ধ্বগতিই এই মূল্যবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে খুচরো মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ৩.২১ শতাংশ, যা মার্চে কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই হার এখনও রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার নির্ধারিত সহনশীলতা সীমার মধ্যেই রয়েছে। মার্চ মাসে বিশেষ করে সোনা ও রূপোর গয়নার পাশাপাশি টমেটো, ফুলকপি এবং নারকেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে পেঁয়াজ, আলু, রসুন এবং ডালজাতীয় শস্যের দাম কিছুটা কমায় সাধারণ মানুষের সুরাহা হয়েছে।
জ্বালানির ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বিদ্যুৎ ও গ্যাসে মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ১.৬৫ শতাংশ। রাজ্যভিত্তিক তথ্যে বড় পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে; যেখানে তেলেঙ্গানায় মুদ্রাস্ফীতির হার ৫.৮৩ শতাংশের সাথে সর্বোচ্চ স্থানে রয়েছে, সেখানে মিজোরামে এই হার মাত্র ০.৬৬ শতাংশ। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লেও পেট্রোল ও ডিজেলের দাম স্থির রেখে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন শিল্পমহল। এসোচ্যাম-এর (ASSOCHAM) সভাপতি নির্মল কে মিন্দা সরকারের এই প্রয়াসের প্রশংসা করেছেন।
খাদ্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা থাকলেও সামগ্রিকভাবে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকায় বাজার পরিস্থিতি আপাতত স্থিতিশীল বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে খাদ্যপণ্যের জোগান ও দামের ওপর এই মুদ্রাস্ফীতির গতিপথ নির্ভর করবে।
মুদ্রাস্ফীতির এই সামান্য বৃদ্ধি কি বাজারের চাহিদাকে প্রভাবিত করবে? সেদিকেই এখন নজর থাকবে অর্থনীতিবিদদের।
