হরমোনজনিত সমস্যা ও বীর্যে শুক্রাণু না থাকার কারণে প্রায় দু’বছর ধরে সন্তানধারণে সমস্যায় ছিলেন ২৭ বছরের রাহুল ও ২৯ বছরের অঞ্জলি (নাম পরিবর্তিত)। শেষ পর্যন্ত শিলিগুড়ির নোভা আইভিএফ ফার্টিলিটি-তে চিকিৎসার মাধ্যমে তাঁদের সন্তান লাভের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা সুস্থ সন্তানের বাবা-মা।
রাহুলের পরীক্ষায় ‘হাইপোগোনাডোট্রপিক হাইপোগোনাডিজম’ ধরা পড়ে। এই সমস্যায় মস্তিষ্ক থেকে অণ্ডকোষে পর্যাপ্ত হরমোনের সংকেত পৌঁছয় না। বীর্য পরীক্ষায় ‘অ্যাজুস্পার্মিয়া’ অর্থাৎ শুক্রাণু না থাকার বিষয়টিও ধরা পড়ে। অন্যদিকে, অঞ্জলির রিপোর্ট স্বাভাবিক ছিল।
নোভা আইভিএফ ফার্টিলিটি-র ফার্টিলিটি স্পেশালিস্ট ডা. শতাব্দী দে জানান, প্রথমে রাহুলের হরমোনের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। নিয়মিত ইনজেকশনের পাশাপাশি তাঁকে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার, ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম ও প্রয়োজনীয় সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। চিকিৎসায় তাঁর হরমোন ও টেস্টোস্টেরনের মাত্রা স্বাভাবিক হলেও শুক্রাণুর সংখ্যা স্বাভাবিকভাবে সন্তানধারণের জন্য যথেষ্ট ছিল না।
এরপর TESA পদ্ধতিতে অণ্ডকোষ থেকে শুক্রাণু সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষায় সুস্থ শুক্রাণু পাওয়া গেলে তা ব্যবহার করে আইভিএফ-এর অংশ হিসেবে ICSI করা হয়। পরীক্ষাগারে তৈরি ভ্রূণ জরায়ুতে প্রতিস্থাপনের প্রায় দু’সপ্তাহ পর গর্ভধারণের পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে। বর্তমানে দম্পতির কোলে সুস্থ সন্তান।
ডাঃ শতাব্দী দে বলেন, সন্তানধারণে সমস্যা হলে স্বামী-স্ত্রী দু’জনেরই একসঙ্গে পরীক্ষা করা জরুরি। পুরুষের যৌনজীবন স্বাভাবিক হলেও শুক্রাণু সংক্রান্ত সমস্যার কারণে সন্তানধারণে সমস্যা হতে পারে। দ্রুত রোগ নির্ণয় করলে চিকিৎসাযোগ্য হরমোনজনিত কারণ চিহ্নিত করা সম্ভব। চিকিৎসাগতভাবে সম্ভব হলে নোভা আইভিএফ ফার্টিলিটি দম্পতির নিজেদের ডিম্বাণু ও শুক্রাণু ব্যবহার করে সেল্ফ-সাইকেল চিকিৎসায় গুরুত্ব দেয়।
