পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনার প্রভাব: ড্রাই ফ্রুটসের অস্বাভাবিক দামে বিপাকে আইসক্রিম-চকোলেট শিল্প

তীব্র দাবদাহে যখন শহরবাসী কিছুটা স্বস্তির খোঁজে ঠান্ডা পানীয় বা আইসক্রিমের দিকে ঝুঁকছেন, তখনই দুঃসংবাদ। পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে সাপ্লাই চেইন ব্যাহত হওয়ায় আইসক্রিম এবং চকোলেটের দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ওয়াশিংটন বনাম তেহরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান টানাপোড়েনের ফলে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের পাশাপাশি প্রভাব পড়েছে ড্রাই ফ্রুটস বা শুকনো ফলের বাজারেও, যা এই দুটি জনপ্রিয় পণ্যের উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

তথ্য অনুযায়ী, আইসক্রিম ও চকোলেট তৈরির জন্য অপরিহার্য উপাদান যেমন পেস্তা, খেজুর এবং বিশেষ করে হ্যাজেলনাট-এর আমদানি ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে। পরিসংখ্যান বলছে, ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহের তুলনায় চলতি সপ্তাহে হ্যাজেলনাট-এর দাম ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বড় হ্যাজেলনাট রপ্তানিকারী দেশ তুরস্ক থেকে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এবং পরিবহণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। সব মিলিয়ে ড্রাই ফ্রুটস ও বাদাম জাতীয় উপাদানের দাম ১৫ থেকে ২২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে উৎপাদন খরচে।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদনকারী সংস্থাগুলি কাঁচামালের এই বাড়তি খরচ সরাসরি ক্রেতাদের ওপর ‘পাস অন’ বা স্থানান্তর করতে বাধ্য হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ইতিমধ্যেই বাজারে দাম বাড়ার আভাস পাওয়া গিয়েছে। ন্যাচরালস আইসক্রিম-এর ডিরেক্টর সিদ্ধান্ত কামাথ জানিয়েছেন, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তাঁরা ইতিমধ্যেই তাদের আইসক্রিমের দাম ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছেন। অন্যদিকে, মাদার ডেয়ারি-র এমডি জয়তীর্থ চারি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বিবেচনা করে তারা নির্দিষ্ট কিছু আইসক্রিমের দাম বৃদ্ধির কথা ভাবছেন।

চকোলেট শিল্পও এই মন্দার হাত থেকে রেহাই পায়নি। পাসকাটি চকোলেটস-এর প্রতিষ্ঠাতা দেবাংশ আশর জানিয়েছেন, হ্যাজেলনাট-এর পাশাপাশি থার্মোকল বক্স এবং প্যাকেজিং উপকরণের খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সব মিলিয়ে উৎপাদন খরচ সামলাতে তারা চকোলেটের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী দিনে খুচরো বাজারে আইসক্রিম ও চকোলেটের দাম আরও চড়তে পারে, যা সাধারণ ক্রেতাদের পকেটে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। গরমে স্বস্তির এই উপকরণগুলি এখন মধ্যবিত্তের বাজেটের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।