চক্রবেড়িয়া বুথে দুই শিবিরের শক্তিপ্রদর্শন

ভোটের দিন ভবানীপুরে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে ওঠে, যখন মুখোমুখি হয়ে পড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী। চক্রবেড়িয়া বুথ এলাকায় তাঁদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

সাধারণত ভোটের দিনে সকাল থেকে খুব একটা বাইরে দেখা যায় না তৃণমূল নেত্রীকে। তবে এদিন সকাল থেকেই একের পর এক বুথে ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি চেতলা ও চক্রবেড়িয়া বুথে পৌঁছান ও অভিযোগ পান যে তৃণমূলের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। সেই খবর পেয়ে চক্রবেড়িয়ায় কিছুক্ষণ অবস্থানও করেন তিনি।

অন্যদিকে, সকাল থেকেই বিভিন্ন মন্দিরে পুজো দিয়ে ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়ায় পৌঁছান শুভেন্দু অধিকারী। সেই সময়ই কার্যত মুখোমুখি হয়ে পড়েন দুই নেতা। তাঁদের একসঙ্গে দেখতে ভিড় জমায় কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষ। যদিও কোনও রাজনৈতিক সৌজন্য বিনিময় দেখা যায়নি।

চক্রবেড়িয়া বুথের বাইরে যেখানে বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রায় সেখানেই এসে পৌঁছান শুভেন্দু অধিকারী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিপুল কেন্দ্রীয় বাহিনী। মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে শুভেন্দুকে কটাক্ষ করতে শোনা যায়, “ওকে কেউ ভোট দিচ্ছে না। কেউ একটা ভোটও দিচ্ছে না। চলো ভাই, যা বলার ৩টের পর বলব।”

পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, “কোথাও কোনও ভুয়ো ভোট নেই। সব বুথে বিজেপির এজেন্ট রয়েছে, যা আগে দেখা যায়নি। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে ৯৬টি ক্যাম্প অফিস তৈরি করা হয়েছে। ভোটারদের মধ্যে প্রবল উৎসাহ রয়েছে।”মমতার বুথ পরিদর্শন নিয়েও কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “এটা হতাশার বহিঃপ্রকাশ।”

উল্লেখ্য, একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম মুখ ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। দীর্ঘদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজ করলেও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। সেই নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতাকে পরাজিত করেছিলেন শুভেন্দু। এবার ভবানীপুরে তাঁদের এই মুখোমুখি উপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা ও উত্তেজনা তৈরি হয়।