নদিয়ায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অচলাবস্থা, ১২ জনের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

নদিয়া জেলার মুরুতিয়া সীমান্ত এলাকায় ১২ জন ব্যক্তিকে ঘিরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-র মধ্যে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা তৃতীয় দিনেও অব্যাহত রয়েছে। দুই দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও সমস্যার কোনো সমাধান সূত্র বের হয়নি, ফলে সীমান্তে উত্তেজনা বজায় রয়েছে।

বিএসএফ সূত্রের দাবি, বিজিবি ১২ জন ব্যক্তিকে ভারতীয় নাগরিক বলে দাবি করে ভারতীয় ভূখণ্ডে পাঠানোর চেষ্টা করে। ওই দলে চারজন পুরুষ, চারজন মহিলা এবং চারজন শিশু রয়েছে। তবে বিএসএফ এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশি নাগরিক এবং অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছে। তাই তাদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।

ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার নদিয়ার রানিনগর সীমান্ত এলাকায়। বিজিবির অভিযোগ, বিএসএফ পূর্বে ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছিল। অন্যদিকে বিএসএফ দাবি করেছে, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বর্তমানে বাংলাদেশের অংশে অবস্থান করছেন।

দুই পক্ষের মধ্যে পরপর দুই দফা বৈঠক হলেও কোনো সমাধান না হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে অবস্থানরত ওই ব্যক্তিদের জন্য খাবার ও অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

উভয় দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে বিষয়টি। সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও ‘পুশ-ইন’ নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, এই ঘটনাকে তারই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।