স্টেলান্টিস আজ ভারতে তার ব্যবসার ভিত্তি তৈরির পর্যায় থেকে তা আরও সম্প্রসারণের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে বৃদ্ধির পরবর্তী ধাপের ঘোষণা করেছে। FaSTLAne 2030-এর অধীনে জিপ®️ এবং সিট্রোয়েন আগামী তিন বছরে ১২টি পণ্য বাজারে আনবে — যার মধ্যে রয়েছে সাতটি একেবারে নতুন পণ্য এবং ৫টি বড় আপগ্রেড – ভারতীয় রাস্তায় জিপ এবং সিট্রোয়েন ব্র্যান্ডের যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করার স্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। B, C, D SUV সেগমেন্টের যানবাহন, একটি MPV, একটি A-সেগমেন্টের গাড়ি এবং একটি প্রিমিয়াম পিকআপের মতো পণ্য জুড়ে এই নতুন সংস্করণগুলি আনা হবে। নতুন এই রোডম্যাপের অধীনে প্রথম গাড়িটি ২০২৭ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের (Q2) মধ্যে বাজারে লঞ্চের জন্য নির্ধারিত হয়েছে।
এই নতুন পণ্য অভিযানের সমর্থনে আগামী ৩ বছরে প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকা (প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ইউরো) নতুন করে বিনিয়োগ করা হবে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতে স্টেলান্টিসের মোট বিনিয়োগকে প্রায় ১৫,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছে দেবে। এই রোডম্যাপটিতে ৫টি জিপ এবং ৭টি সিট্রোয়েন লঞ্চের কথা রয়েছে, যেখানে দুটি ব্র্যান্ড পৃথক কিন্তু একে অপরের পরিপূরক ভূমিকা পালন করবে। এই পণ্যগুলি সম্মিলিতভাবে স্টেলান্টিসকে ভারতের যাত্রীবাহী যানবাহন শিল্পের সমস্ত উচ্চ-সম্ভাবনাময় সেগমেন্টে নিয়ে যাবে।
ব্যবসা যখন নতুন গতি পাচ্ছে, ঠিক তখনই এই ঘোষণাটি সামনে এল। ক্যালেন্ডার বছর ২০২৬-এর প্রথম ত্রৈমাসিকের তুলনায় দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে স্টেলান্টিস ইন্ডিয়ার ব্যবসা ৩৫% বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০২৬-এর দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে সিট্রোয়েনের খুচরা বিক্রি ৬৮% বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই ঘোষণা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে, স্টেলান্টিসের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের চিফ অপারেটিং অফিসার তিয়ানশু সিন বলেন, “স্টেলান্টিসের কাছে ভারতের দুটি প্রধান ভূমিকা রয়েছে: এটি যেমন আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার যেখানে আমরা ব্যবসা বাড়াতে চাই, তেমনই এই অঞ্চল তথা সমগ্র গ্রুপের জন্য এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা গড়ে তোলার ভিত্তি। ভারতে আমাদের উপস্থিতি দীর্ঘমেয়াদী অঙ্গীকারের প্রতীক, এটি কেবল ভলিউম বৃদ্ধির দৌড় নয়। FaSTLAne 2030-এর অধীনে আমাদের অঞ্চল-ভিত্তিক মডেল ভারতের টিমকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও বেশি স্বাতন্ত্র্য ও মালিকানা দিচ্ছে, এবং আজ আমরা যে রোডম্যাপের ঘোষণা করছি, তা এই বাজারের প্রতি আমাদের দীর্ঘমেয়াদী আস্থারই প্রতিফলন। নিত্যনতুন গাড়ির আগমন, মাল্টি-এনার্জি প্রযুক্তিগত পদ্ধতি এবং উৎপাদন, ইঞ্জিনিয়ারিং, সফটওয়্যার ও সোর্সিংয়ের ক্ষেত্রে ভারতের দক্ষতা আমাদের ২০৩০ সালের মধ্যে এখানে আরও বড় ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসা গড়ে তোলার শক্ত ভিত তৈরি করে দিচ্ছে।”
স্টেলান্টিস ইন্ডিয়ার সিইও এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর শৈলেশ হাজেলা বলেন, “ভারতের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার পরিমাপ করা হবে আমরা রাস্তায় কী পরিমাণ গাড়ি নিয়ে আসছি তার ভিত্তিতে। গত কয়েক বছর ধরে একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করার পর, আমাদের নজর এখন ব্যবসা আরও সম্প্রসারণ করার দিকে। আগামী তিন বছরে জিপ এবং সিট্রোয়েনের বারোটি লঞ্চ আমাদের বাজারের অংশীদারিত্বকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে এবং একইসাথে গভীর স্থানীয়করণ এবং একটি শক্তিশালী বিক্রয় ও সার্ভিস নেটওয়ার্কের সহায়তায় ভারতীয় গ্রাহকদের বিভিন্ন সেগমেন্ট ও পাওয়ারট্রেনে পছন্দ বেছে নেওয়ার আরও বড় সুযোগ তৈরি করে দেবে। প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে আমরা এই বাজারে আমাদের পরিধি, প্রাসঙ্গিকতা ও প্রতিযোগিতা করার ক্ষমতা বাড়াচ্ছি, যার পাশাপাশি স্টেলান্টিসের বিশ্বব্যাপী কার্যক্রমে ভারতের ভূমিকাও আরও শক্তিশালী করছি।”
বৃদ্ধির এই পরবর্তী পর্যায়টি মূলত ভারতে উৎপাদন, ইঞ্জিনিয়ারিং, সফটওয়্যার, সোর্সিং এবং রপ্তানি খাতে এ পর্যন্ত বিনিয়োগ করা ১১,০০০ কোটি টাকারও বেশি (১ বিলিয়ন ইউরোর বেশি) অর্থের ওপর ভর করে গড়ে উঠছে। স্টেলান্টিস বর্তমানে ভারতে তিনটি উৎপাদন কেন্দ্র পরিচালনা করছে — যার মধ্যে রয়েছে মহারাষ্ট্রের রঞ্জনগাঁও এবং তামিলনাড়ুর তিরুভাল্লুর ও হোসুর – এর পাশাপাশি বেঙ্গালুরুতে ইঞ্জিনিয়ারিং ও সফটওয়্যার কেন্দ্র, হায়দ্রাবাদে ICT উপস্থিতি এবং দেশে দ্রুত বিকাশমান সরবরাহকারীদের একটি ইকোসিস্টেম রয়েছে।
নতুন রোডম্যাপের অধীনে জিপ®️ প্রিমিয়াম এসইউভি সেগমেন্টে স্টেলান্টিসের অবস্থানকে আরও জোরদার করবে, নতুন গাড়ি ও উন্নত পাওয়ারট্রেন বিকল্পের মাধ্যমে জিপ একাধিক সেগমেন্টে তার পরিধি বাড়াবে এবং একই সাথে গাড়ি চালানোর দারুণ সক্ষমতা, স্বকীয়তা ও নজরকাড়া এসইউভি ডিজাইনের মূল বৈশিষ্ট্যগুলোকে আরও সমৃদ্ধ করবে। অন্যদিকে সিট্রোয়েন ভারতের গ্রাহকদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে তৈরি করা সহজলভ্য ও বৈচিত্র্যময় গাড়ির মাধ্যমে সাধারণ এবং বেশি বিক্রয়যোগ্য সেগমেন্টগুলোতে নিজেদের উপস্থিতি বাড়াবে, পাশাপাশি আরাম, আকর্ষণীয় ডিজাইন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ওপর জোর দিয়ে সিট্রোয়েন অনেক বড় পরিধির গ্রাহকশ্রেণীর কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়েছে।
ভারতের গতিশীলতার রূপান্তর যে একাধিক প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে হবে তা অনুধাবন করে, ভবিষ্যতের এই পোর্টফোলিওতে একটি মাল্টি-এনার্জি কৌশল অনুসরণ করা হবে, যাতে স্টেলান্টিসের বিশ্বমানের প্রযুক্তি ব্যবহার করে দক্ষ ইন্টারনাল কম্বাশন ইঞ্জিন, হাইব্রিড, প্লাগ-ইন হাইব্রিড (PHEV) এবং ব্যাটারি-ইলেকট্রিক (BEV) প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। গ্রাহকের চাহিদা, সাশ্রয়যোগ্যতা, সরকারি নিয়মকানুন, পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি এবং নির্দিষ্ট সেগমেন্টের অর্থনৈতিক দিক বিবেচনা করে সঠিক গ্রাহক ও ব্যবহারের জন্য সঠিক প্রযুক্তি নিশ্চিত করাই হবে পাওয়ারট্রেন নির্বাচনের মূল ভিত্তি।
গাড়ির বৈচিত্র্য বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রাহকদের সেবা পাওয়া ও গাড়ি মালিকানার অভিজ্ঞতা আরও সহজ করার দিকে নজর দেওয়া হবে। স্টেলান্টিস ক্রমাগত তাদের জিপ ও সিট্রোয়েনের সম্মিলিত নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি করে চলেছে, যেখানে মূলত বিক্রয় সুবিধা, সার্ভিসিং সক্ষমতা, খুচরো যন্ত্রংশের সহজলভ্যতা এবং গ্রাহক অভিজ্ঞতার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ব্যবসায়িক সম্ভাবনা রয়েছে এমন ‘টিয়ার-২’ এবং ‘টিয়ার-৩/৪’ শহরগুলোতে ব্যবসার পরিধি বাড়াতে স্টেলান্টিস ব্র্যান্ড হাউস ফরম্যাটটি বিশেষ সহায়কের ভূমিকা পালন করবে।
পণ্যের স্থানীয়করণ (লোকালাইজেশন) এই কৌশলের মূল কেন্দ্রে থাকবে। বাণিজ্যিক ও কারিগরিভাবে সুবিধাজনক প্রতিটি ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের পণ্য তৈরিতে ভারতের শিল্প, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী ইকোসিস্টেমকে কাজে লাগানো হবে। স্টেলান্টিস উভয় ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রে ৯০% পর্যন্ত স্থানীয়করণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, পাশাপাশি গ্রুপের বৈশ্বিক সোর্সিংয়ের ক্ষেত্রে ভারতের অবদান আরও বৃদ্ধি করার কাজ অব্যাহত রাখবে।
গ্রুপের জন্য একটি রপ্তানি ভিত্তি হিসেবেও ভারত আরও বড় ভূমিকা পালন করবে। স্টেলান্টিস বর্তমানে ভারত থেকে প্রায় ৫০টি দেশে গাড়ি ও যন্ত্রাংশ রপ্তানি করে এবং হোসুর কারখানায় উৎপাদিত প্রায় ৯৫% ইঞ্জিন ও গিয়ারবক্স বিদেশে রপ্তানি করা হয়। FaSTLAne 2030 রোডম্যাপের অধীনে, গ্রুপের এশিয়া-প্যাসিফিক কৌশলের অংশ হিসেবে ভারতে তৈরি যানবাহন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় বাজারের চাহিদাই মেটাবে।
বৃদ্ধির এই পরবর্তী পর্যায়ের মূল উদ্দেশ্য স্পষ্ট: ভারতে জিপ ও সিট্রোয়েনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির সাথে সাথে আরও বেশি সেগমেন্ট, আরও বেশি গ্রাহক এবং পাওয়ারট্রেন বা ইঞ্জিনের আরও নতুন বিকল্প দেওয়া। প্রতিটি পণ্য, পাওয়ারট্রেইন এবং তা বাজারে আসার সুনির্দিষ্ট সময়সূচী পরবর্তীতে গাড়িগুলো লঞ্চের কাছাকাছি সময়ে ঘোষণা করা হবে।
স্টেলান্টিস ৪,০০০ কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগের অঙ্গীকার নিয়ে ভারতে বৃদ্ধির পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করল; FaSTLAne 2030-এর অধীনে ১২টি পণ্য আনছে জিপ®️ ও সিট্রোয়েন
