একটি খাবার বদলে দিতে পারে জীবন: মালাবার গ্রুপের ‘হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড’ উদ্যোগে দৈনিক খাবার বিতরণের রূপান্তরমূলক প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে

বিশ্ব ক্ষুধা দিবস উপলক্ষে মালাবার গ্রুপের মানবিক উদ্যোগ ‘হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড’ তাদের স্ট্রিট মিল ডিস্ট্রিবিউশন প্রোগ্রামের প্রভাব তুলে ধরেছে ‘রিহ্যাবিলিটেশন ইমপ্যাক্ট রিপোর্ট: ইমপ্যাক্ট স্টোরিজ, হাউ আ ডেইলি মিল ওপেন্স দ্য ডোর টু আ ট্রান্সফর্মড লাইফ’ শীর্ষক প্রতিবেদনের মাধ্যমে। এই প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, কীভাবে থনাল-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত দৈনিক খাবার বিতরণ কার্যক্রম পথবাসী ও অসহায় মানুষদের উদ্ধার, চিকিৎসা সহায়তা, আশ্রয়, মর্যাদা পুনরুদ্ধার এবং পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনে সহায়ক হয়েছে।

স্ট্রিট মিল ডিস্ট্রিবিউশন প্রোগ্রামটি নিয়মিত পুষ্টিকর খাবারের মাধ্যমে ক্ষুধা মোকাবিলার উদ্দেশ্যে শুরু হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই উদ্যোগটি আরও গভীর মানবিক সহায়তার সেতু হয়ে উঠেছে, কারণ নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে মাঠকর্মীরা মানুষের আস্থা অর্জন করতে, তাদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করতে, সংকট চিহ্নিত করতে এবং পুনর্বাসন সহায়তার সঙ্গে সংযুক্ত করতে সক্ষম হচ্ছেন। প্রতিবেদনে পুনরায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, একটি খাবার যখন ধারাবাহিকভাবে এবং মানবিক যত্নের সঙ্গে পৌঁছে দেওয়া হয়, তখন সেটি বৃহত্তর পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে।

বর্তমানে এই কর্মসূচি ভারতের ২০টি রাজ্য এবং বিশ্বের ৯টি দেশে পরিচালিত হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে ছয়টি জিসিসি দেশ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং জাম্বিয়া। ‘মাইক্রো লার্নিং সেন্টার’ এবং ‘স্ট্রিট মিল ডিস্ট্রিবিউশন প্রোগ্রাম’-এর মাধ্যমে বর্তমানে ১,৪৩,০০০ মানুষের কাছে পৌঁছানো হচ্ছে।

এই উদ্যোগ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে মালাবার গ্রুপের চেয়ারম্যান এম. পি. আহাম্মদ বলেন, “একটি খাবার দেখতে সাধারণ মনে হতে পারে, কিন্তু যখন তা নিয়মিতভাবে এবং মানবিক যত্নের সঙ্গে পৌঁছে দেওয়া হয়, তখন তা শুধুমাত্র খাবার থাকে না। ‘হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড’-এর মাধ্যমে আমরা দেখেছি, কীভাবে নিয়মিত যোগাযোগ মানুষের আস্থা গড়ে তোলে, আর সেই আস্থাই প্রায়শই পুনর্বাসন, স্বাস্থ্যসেবা, মানসিক সহায়তা এবং মর্যাদা পুনরুদ্ধারের ভিত্তি হয়ে ওঠে। এই গল্পগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, অসহায় মানুষের পাশে ধারাবাহিকভাবে দাঁড়ানো এবং সহানুভূতির সঙ্গে কাজ করা সত্যিই একজন মানুষের জীবনের গতিপথ বদলে দিতে পারে।”

স্ট্রিট মিল ডিস্ট্রিবিউশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে বহু মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। নাগেরকোইলে বাসস্ট্যান্ডের কাছে খাবার গ্রহণ করা এক প্রবীণ ব্যক্তি খাবার বিতরণকারী গাড়ির চালকের সঙ্গে নিরাপদ জীবনের ইচ্ছা ভাগ করে নেওয়ার পর একটি কেয়ার হোমে আশ্রয় পান। কুম্বকোনমে দীর্ঘদিন নিয়মিত খাবার সহায়তা পাওয়ার ফলে শয্যাশায়ী এক ব্যক্তির পরিচ্ছন্নতা, পোশাক এবং পুনর্বাসনের মাধ্যমে তার মর্যাদা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। চেন্নাইয়ে দিনে দু’বার নিয়মিত খাবার বিতরণের মাধ্যমে মানসিক কষ্টে থাকা এক নারী ধীরে ধীরে সহায়তা গ্রহণে সম্মত হন এবং পরবর্তীতে একটি কেয়ার ফ্যাসিলিটিতে স্থানান্তরিত হন।