দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বৃষ্টির পূর্বাভাস: বজ্রপাত থেকে বাঁচতে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ

চৈত্র-বৈশাখের মেজাজে শহর কলকাতার আকাশ আচমকাই কালো মেঘে ঢেকে গিয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আগামী এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। বৃষ্টির পাশাপাশি শহরজুড়ে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সকাল ৮টা ৩৬ মিনিটে জারি করা এই বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে আবহাওয়া দফতর ‘কমলা সতর্কতা’ জারি করে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, স্থানীয় স্তরে সঞ্চারিত বজ্রগর্ভ মেঘ বা ‘থান্ডার ক্লাউড’ তৈরি হওয়ার কারণেই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কলকাতার আকাশ মুখভার করে রয়েছে। শহরের বেশ কিছু জায়গায় ইতিমধ্যে বিক্ষিপ্তভাবে ঝিরঝিরে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। সারা দিন আকাশ আংশিক মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও বিকেলের দিকে পুনরায় বজ্রপাত এবং বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকবে, কারণ বাতাসে সর্বোচ্চ আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ৯৪ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

শুধুমাত্র কলকাতাই নয়, বুধবার এবং বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গের সমস্ত জেলাতেই বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনা, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং নদিয়ায় ঝড়ের দাপট বেশি থাকতে পারে। এই জেলাগুলিতে ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে জানানো হয়েছে। বাকি জেলাগুলিতে হাওয়ার গতিবেগ ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটারের আশেপাশে থাকবে। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে।

তাপমাত্রার পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, আজ কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকতে পারে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা মরসুমের স্বাভাবিক তাপমাত্রা। তবে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ১.৪ ডিগ্রি বেশি। স্থানীয় মেঘের প্রভাবে হওয়া এই বৃষ্টি সাময়িকভাবে তাপমাত্রা কমালেও বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরম এখনই পিছু ছাড়ছে না। আবহাওয়া দফতরের পক্ষ থেকে বৃষ্টির সময় গাছ বা বিদ্যুতের খুঁটির নিচে না দাঁড়িয়ে পাকা ছাদের নিচে আশ্রয় নেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে।